আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাজের মাঝেই ঘটল বিপত্তি। রাস্তার ধারে পরপর মহিলা শ্রমিককে পিষে দিল বেপরোয়া গতির গাড়ি। গাড়ির চাকায় পিষে একের পর এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই গাড়ির চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। দুর্ঘটনার পরেই এক গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃত মহিলা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোমবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বেরালা এলাকায়। পুলিশ আধিকারিক সূর্যকান্ত শর্মা জানিয়েছেন, বেরালায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও নিহতদের পরিবার পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখানোর পরেই, নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত কম আহতদের এক লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে। 

পুলিশ আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু'জন মহিলা শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে কাজ করছিলেন। বেপরোয়া গতির এক গাড়ির চালক তাঁদের পিষে দিয়ে পালিয়ে যান। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি ও গাড়ির চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। দুর্ঘটনাটি ঘিরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। 

গত বছর নভেম্বর মাসে এমন আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। বেপরোয়া গতির জেরে আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জন্মদিনের পার্টি সেরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। বেপরোয়া গতির বলি পাঁচ বন্ধু। রবিবার ভোরবেলায় ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একসঙ্গে মারা যান তাঁরা। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় শিউরে ওঠে খোদ পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল রবিবার ভোরবেলায় মধ্যপ্রদেশে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালিয়র-ঝাঁসি হাইওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি বেপরোয়া গতির গাড়ি। এসইউভি গাড়িতে ছিলেন একদল যুবক। তাঁরা সকলেই একে অপরের বন্ধু ছিলেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পাঁচ বন্ধুর মৃত্যু হয়েছিল। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মারওয়া কলেজের সামনে ভোর ছ'টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। গাড়িটিও বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিল। আচমকা দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালিবোঝাই ট্র্যাক্টরে সজোরে ধাক্কা দেয়। নিমেষে দুমড়ে মুচড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ। গাড়ির সকল যাত্রীর মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। পাঁচ বন্ধুই গোয়ালিয়রের বাসিন্দা ছিলেন। 

জানা গেছে, গাড়িটি ঝাঁসি থেকে গোয়ালিয়রের দিকেই যাচ্ছিল। জন্মদিনের পার্টি সেরে সকলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িটি ১২০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি এমনভাবে দুমড়ে যায়, যা একনজরে দেখে চেনাও যায়নি। ট্র্যাক্টরের তলায় পিষে যায় খানিকটা। দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর পরিণতিতে পুলিশের চোখ কপালে। মৃত পাঁচজনের বয়স ২৫ বছরের আশেপাশে ছিল।