আজকাল ওয়েবডেস্ক: একের পর এক খুন। কখনও নিজের আত্মীয়, কখনও অপরিচিত কোনও মহিলা, কখনও আবার টার্গেট পাঁচ বছরের নাবালিকা। শহর জুড়ে 'সাইকো কিলার'কে নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অবশেষে দোষী সাব্যস্ত ওই খুনিকে কড়া সাজার নির্দেশ দিল আদালত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। পুলিশ জানিয়েছে, এক মহিলাকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ৫৪ বছরের এক প্রৌঢ়কে। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত। ২০২২ সালে ওই মহিলাকে অপহরণ করে খুন করেছিল সে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ওই প্রৌঢ়ের নাম, সিং রাজ। ফরিদাবাদেই ছ'টি খুনের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অতীতে তিন নাবালিকাকেও খুন করেছিল সে। বিচারপতি পুরুষোত্তম কুমার সাজা ঘোষণা করেছেন। দোষী সাব্যস্ত সিং রাজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২.১ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ফরিদাবাদের ভুপানি গ্রামে ২০২২ সালে জানুয়ারি মাসে এক মহিলা তাঁর বোনঝির নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। তদন্তে নেমে ৬ জানুয়ারি ২০ বছরের তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিনই সিং রাজকে গ্রেপ্তার করে তারা। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করে, ওই তরুণীকে অপহরণ করে খুন করে আগ্রা ক্যানেলের ধারে লুকিয়ে রেখেছিল। তিন নাবালিকা সহ আরও পাঁচটি খুনের ঘটনাও স্বীকার করে সে।
২০২২ সালে মার্চ চার্জশিট পেশ করা হয়। ট্রায়াল চলাকালীন ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। অবশেষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, সেক্টর ১৬-তে বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করত সিং রাজ।
২০১৯ সালে এক চায়ের দোকানের মালিকের পাঁচ বছরের মেয়েকে শ্লীলতাহানি করেছিল সে। নাবালিকা বাধা দিতেই তাকে খুন করে। ২০২০ সালে আগস্টে শ্লীলতাহানিতে বাধা দিতেই হাসপাতালের মধ্যে ১২ বছরের এক বালিকাকে খুন করে। এরপর ২০২১ সালে জুন মাসে ওই হাসপাতালে এক কিশোরীকে খুন করে। হাসপাতালেই কাজ করত ওই কিশোরী। পাশাপাশি নিজের কাকা ও ভাগ্নেকেও খুন করেছে বলে জানিয়েছে সিং রাজ।
