পুষ্টির ভান্ডার! কিন্তু কারা ভুলেও ছোঁবেন না দুধ, বিপদে পড়ার আগেই জেনে নিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
8
দুধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর পানীয়। নিয়মিত দুধ পান করলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, বি২ ও বি১২ থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে পটাশিয়াম, প্রোটিন, আয়োডিন, ফসফরাস-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। প্রোটিন থাকার কারণে দুধ পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাংসপেশির মেরামতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে এত উপকারের পাশাপাশি কিছু মানুষের শরীরে দুধ ঠিকমতো হজম হয় না। উল্টে দুধ তাঁদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। জেনে নিন, কোন কোন ক্ষেত্রে দুধ না খাওয়াই ভাল কিংবা খাওয়ার আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
2
8
মালাই ছাড়া দুধেও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ কম নয়। এগুলি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। যাঁদের হৃদরোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য কম ফ্যাটযুক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বেছে নেওয়াই ভাল।
3
8
অনেক প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে দুধ হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ল্যাকটেজ’ এনজাইমের ঘাটতি থাকে। দুধ খাওয়ার পর যদি পেট ফোলা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর দুধ নিতে পারছে না। এই ক্ষেত্রে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা বাদাম, সয়া জাতীয় প্ল্যান্ট-বেসড দুধ খাওয়া যেতে পারে।
4
8
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত দুধ পান করলে পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দুধ খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত নয়।
5
8
কাঁচা দুধে স্যালমোনেলা, ই-কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক মানুষ বা যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের জন্য কাঁচা দুধ বিপজ্জনক হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাস্তুরাইজড বা ভালভাবে ফোটানো দুধই পান করা উচিত।
6
8
দুধে থাকা প্রোটিনের প্রতি শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুলভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালে তাকে মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি বলা হয়। এই ক্ষেত্রে দুধ পান করলে চুলকানি, ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় দুধ পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই একমাত্র উপায়।
7
8
শিশুদের অতিরিক্ত দুধ খাওয়ালে তারা আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার ঠিকমতো খেতে চায় না। ফলে আয়রনের ঘাটতি এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে দুধের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও সুষমভাবে দেওয়া জরুরি।
8
8
যাঁদের ব্রণের সমস্যা বেশি, তাঁদের অতিরিক্ত দুধ না খাওয়াই ভাল। দুধে থাকা কিছু হরমোন ও গ্রোথ ফ্যাক্টর শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়, ফলে ত্বকে সিবাম নিঃসরণ বেড়ে ব্রণ আরও বাড়তে পারে। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও দুধ সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। আবার কিছু ধরনের কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কতটা দুধ খাওয়া নিরাপদ, তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা উচিত।