আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভিন জাতের প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রেমিক যুগলের হাত, পা বেঁধে, পিটিয়ে খুন করলেন তরুণীর দাদারা। খুনের পর দেহ দু'টি মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন। অবশেষে ফাঁস হল সেই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, মোরাবাদে ২৭ বছরের এক মুসলিম তরুণ ও তাঁর ২২ বছরের প্রেমিকাকে বেঁধে, একসঙ্গে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে তরুণীর দাদাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম, আরমান। গত চার বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে মোরাবাদে ছিলেন। এই সময়েই কাজলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভিন জাতের কারণেই এই প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে আপত্তি তোলেন কাজলের দাদারা। এমনকী সম্পর্ক ভাঙার জন্য জোরাজুরিও করেন।
গত তিনদিন আগে আচমকাই কাজল ও আরমান নিখোঁজ হন একসঙ্গে। আরমানের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এই সূত্রেই কাজলের দাদাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরায় প্রেমিক যুগলকে খুনের কথা স্বীকার করে নেন তাঁরা। খুনের পর দেহ দু'টি মাটিতে পুঁতে রাখেন। পুলিশকে সেই ঘটনাস্থল দেখিয়েছেন তাঁরা।
গতকাল সন্ধ্যায় প্রেমিক যুগলের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের হাত, পা বেঁধে খুন করা হয়েছিল বলেই পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যুগলকে খুনের অভিযোগে তরুণীর তিন দাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রামেও বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে অশান্তি দানা না বাঁধে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই মহারাষ্ট্রে এমন আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। তফশিলি জাতির তরুণের সঙ্গে প্রেম। পরিবারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সম্পর্ক ভাঙেননি তরুণী। শেষমেশ তাঁর অনুপস্থিতিতেই প্রেমিককে নৃশংসভাবে খুন করেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। মহারাষ্ট্রের নান্দেদ কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠেন আঁচলের বাড়ির লোকেরা। সক্ষম তাতেকে এলাকায় দেখতে পেয়েই বাড়ির কাছে ডেকে পাঠান আঁচলের বাবা, ভাইয়েরা। সক্ষমকে মারধর করে, মাথায় গুলি করে খুন করা হয়। পরে পাথর দিয়ে মাথা থেঁথলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
পরদিন সকালে খবরের কাগজে সক্ষমের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন আঁচল। শেষকৃত্য চলাকালীন আঁচল সক্ষমের বাড়িতে পৌঁছন। নিথর প্রেমিকের হাত দিয়ে নিজের সিঁথি সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলেন যুবতী। সক্ষমের বিধবা স্ত্রী হিসেবে বাকি জীবন শ্বশুড়বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সক্ষমের খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করার সময় বলেন, "আমাদের ভালবাসা জিতেছে, এমনকী সক্ষমের (প্রেমিকের নাম) মৃত্যুতেও আমার বাবা এবং ভাইয়েরা হেরে গিয়েছে।" জোর গলায় আঁচল বলতে থাকেন, তিনি বিয়ে করেছেন কারণ সক্ষম মারা গেলেও তাঁদের ভালবাসা এখনও বেঁচে আছে। গোটা পরিবারের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন আঁচল।
পুলিশ জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে, আঁচলের বাবা গজানন বালাজি মামিদওয়ার, মা জয়শ্রী মামিদওয়ার, দাদা সাহিল গজানন মামিদওয়ার, সোমেশ সুভাষ, বেদান্ত অশোক কুন্দেকার, চেতন বালাজি মামিদওয়ার, আরও এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি। এই অভিযুক্তদের মধ্যে আঁচলের ১৭ বছরের এক ভাইও আছে। সক্ষম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল ছ'জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আজ ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আঁচল জানিয়েছেন, সক্ষম জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন পরিবারের সদস্যদের। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন দাদা, ভাইয়েরা। মিথ্যে মামলায় সক্ষমকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু পুলিশ সেই মামলা রুজু না করে, সক্ষমকে খুনের উস্কানি দেয়। থানা থেকে ফিরেই বৃহস্পতিবার তাঁর অনুপস্থিতিতে সক্ষমকে নির্মমভাবে খুন করেন তাঁরা।
আঁচল আরও জানিয়েছেন, 'সক্ষম তফশিলি জাতির ছিল বলেই পরিবারের আপত্তি ছিল বিয়েতে। পরিবার জানিয়েছিল, 'আমাকে বিয়ে করতে হলে জাতি বদলে ফেলতে হবে। তার জন্যেও প্রস্তুত ছিল সক্ষম। আমার পরিবার ওকে শেষ করার অপেক্ষায় দিন গুনছিল।' প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, সক্ষমকে কাছে পেয়েই তড়িঘড়ি গুলি চালায় আঁচলের ভাই। স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করার আগেই সক্ষমের মৃত্যু হয়।
