আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় বেকসুর খালাস পেলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার। দিল্লির জনকপুরী এবং বিকাশপুরী এলাকায় হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বৃহস্পতিবার সজ্জন কুমারকে নির্দোষ বলেছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আদালত সজ্জন কুমারকে খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
বিশেষ বিচারক দিগ বিজয় সিং, সজ্জন কুমারকে বেকসুর খালাস বলে সংক্ষিপ্ত মৌখিক আদেশ দিয়েছেন।
সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০২৩ সালের অগস্ট মাসে আদালত সজ্জনকে দাঙ্গা ও হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। তবে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র ও খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
এর আগে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ১৯৮৪ সালের দাঙ্গার সময় জনকপুরী এবং বিকাশপুরী এলাকার হিংসার অভিযোগের ভিত্তিতে কুমারের বিরুদ্ধে দু'টি এফআইআর দায়ের করে। প্রথম এফআইআরটি জনকপুরীর ঘটনা সম্পর্কিত ছিল। এক্ষেত্রে ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর সোহান সিং এবং তাঁর জামাই অবতার সিংকে হত্যা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় এফআইআরটি বিকাশপুরীর ঘটনা সম্পর্কিত, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে ১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর গুরচরণ সিংকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এই মামলায় সজ্জন কুমারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল।
বর্তমানে কারাবন্দি সজ্জন কুমারকে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। এই মামলাটি সরস্বতী বিহার এলাকায় ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর নিহত যশবন্ত সিং এবং তাঁর ছেলে তরুণদীপ সিংয়ের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, যদিও "দুই নিরীহ ব্যক্তিকে" হত্যা একটি গুরুতর অপরাধ ছিল, তবে এটা মৃত্যুদণ্ড আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় "বিরলতম" বিভাগের মানদণ্ড পূরণ করেনি।
আদালত আরও উল্লেখ করে যে, এই ঘটনাটি একই ঘটনার ধারার অংশ ছিল এবং এটাকে সেই মামলার ধারাবাহিকতা হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যে মামলায় ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর পালাম কলোনি এলাকায় একই ধরনের দাঙ্গার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট সজ্জন কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। হিংসা এবং তা পরবর্তী পরিস্থিতি তদন্তের জন্য গঠিত নানাবতী কমিশনের প্রতিবেদন অনুসারে, দাঙ্গার ঘটনায় দিল্লিতে মোট ৫৮৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যাতে ২,৭৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ২৪০টি পুলিশ ‘অশনাক্ত’ হিসেবে বন্ধ করে দেয়, এবং প্রায় ২৫০টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পান।
৫৮৭টি এফআইআর-এর মধ্যে মাত্র ২৮টি শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দিকে এগিয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০০ জন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্য-সহ প্রায় ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
