আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের দায়ের করা জামিনের আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্ট সোমবার (৫ জানুয়ারি, ২০২৬) রায় ঘোষণা করবে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ, দিল্লি হাইকোর্টের ২ সেপ্টেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে আগেই তাঁদের আদেশটি স্থগিত রেখেছিল। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অভিযুক্তদের জামিন নাকচ করে দিয়েছিল। ১০ ডিসেম্বরের শুনানিতে মামলা রায়দান স্থগিত রেখেছিল।
আবেদনকারীরা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে আছেন এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন ও ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। ফলে দিল্লি হাইকোর্ট এই সাতজনের জামিন নাকচ করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।
শীর্ষ আদালতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র উমরের হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবী কপিল সিব্বাল। আর ফাতিমার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এএম সিঙ্ঘভি। অভিযুক্তদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, বেশ কয়েক বছর পরেও হিংসয় উস্কানি দেওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁরা বিচারের ক্ষেত্রে সমতার বিষয়টিও উত্থাপন করে বলেন, কিছু সহ-অভিযুক্তকে এর আগে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
প্রশানের পক্ষে কী যুক্তি?
সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন যে, গুলফিশা ফাতিমা প্রায় ছয় বছর ধরে হেফাজতে রয়েছেন, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ২০২১ সালে জামিনপ্রাপ্ত সহ-অভিযুক্তদের মতোই। তিনি বলেন, "সরকার পরিবর্তনের" যুক্তিটি মূল বা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নেই।
উমর খালিদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বাল বলেন, দাঙ্গার সময় খালিদ দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন না এবং প্রসিকিউশন উদ্ধৃত তাঁর ভাষণে অহিংস প্রতিবাদের আহ্বানের কতা শোনা গিয়েছিল। সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে বলেন, শারজিল ইমামের ভাষণগুলোর জন্য ইতিমধ্যেই আলাদাভাবে বিচার হয়েছে এবং এগুলোকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
অন্যান্য আইনজীবীরা তহবিলের অপ্রতুলতা, পুলিশের অবস্থানে পরিবর্তন এবং প্রসিকিউশনের কারণে সৃষ্ট বিলম্বের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
দিল্লি পুলিশ যুক্তি দেয় যে, দিল্লির হিংসা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। প্রসিকিউশন ডিজিটাল প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং হিংসার আগে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকগুলোর ওপর নির্ভর করেছিল।
সোমবার আদালতের রায় নির্ধারণ করবে যে, বছরের পর বছর জেল খাটার পর অভিযুক্তরা আদৌ জামিন পাবেন কিনা।
২০২০ সালে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হিংসায় ৫৩ জন নিহ হয়েছিলেন। আহত হন ৭০০-র বেশি। ওই ঘটনায় উমরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই থেকে তিনি জেলে আছেন।
দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় 'অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী' উমর খালিদ। 'উস্কানিমূলক' বক্তৃতা করার অভিযোগে জেএনইউয়ের প্রাক্তন এই গবেষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন উমর। সেখানে আর্জি খারিজ হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান।
উমরের মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র। পরে উমর নিজেই শীর্ষ আদালত থেকে জামিনের আর্জি প্রত্যাহার করে দিল্লির করকরডুমা আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদন ২০২৪ সালে খারিজ হয়েছিল। অন্য দিকে, শারজিলের বিরুদ্ধে হিংসাপর্বের সময় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগ রয়েছে।
