আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-কেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বান অনুযায়ী দেশের নতুন প্রজন্মকে ‘ব্রিটিশ মানসিকতা’ থেকে বের করে আনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার নাগপুর সফরের সময় এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২০ সালে ঘোষিত জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক মৌলিক ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনতে চলেছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশকে ম্যাকাওলে (ব্রিটিশ শিক্ষা নীতি) মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। NEP ২০২০-ই হবে সেই মাধ্যম, যার মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্ম এই ঔপনিবেশিক মানসিকতার বেড়াজাল ছিন্ন করবে।” তাঁর মতে, ছয় বছরে পা দেওয়া জাতীয় শিক্ষানীতি কেবল পাঠ্যক্রমের সংস্কার নয়, বরং শিক্ষার উদ্দেশ্য, ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও এক ‘বিরাট পরিবর্তন’ ঘটাবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান জোর দিয়ে বলেন, ভারত একটি তরুণদের দেশ এবং এই বিপুল যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা শিক্ষা দপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণেই মাতৃভাষায় শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম এবং কর্মদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে NEP-তে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিও হবে আরও সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক, যেখানে কেবল পরীক্ষার নম্বর নয়, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সক্ষমতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন শিক্ষানীতির লক্ষ্য শুধু চাকরির বাজারে উপযুক্ত কর্মী তৈরি করা নয়, বরং এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা উদ্যোক্তা হবে, নতুন উদ্ভাবন ঘটাবে এবং নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। “যুবসমাজকে কেবল চাকরি-প্রার্থী হিসেবে নয়, চাকরি-সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে,” বলেন তিনি।
এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগের মন্তব্যের কথাও নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে। গত ১৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে ষষ্ঠ রামনাথ গোয়েঙ্কা বক্তৃতা প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, থমাস ম্যাকাওলের চাপিয়ে দেওয়া ‘দাসত্বের মানসিকতা’ থেকে ভারতকে মুক্ত করার জন্য একটি জাতীয় সংকল্প গ্রহণ করতে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “ভারতের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত ভিত্তির বিরুদ্ধে ম্যাকাওলে যে অপরাধ করেছিলেন, তার ২০০ বছর পূর্ণ হবে ২০৩৫ সালে। আগামী এক দশকে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে সংকল্প নিতে হবে এই দাসত্বের মানসিকতা থেকে নিজেদের মুক্ত করার।”
নাগপুর সফরে ধর্মেন্দ্র প্রধান আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিসৌধ ‘ড. হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির’ (রেশিমবাগ)-এ শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তিনি নাগপুরের ‘দীক্ষাভূমি’-তেও যান এবং সংবিধান প্রণেতা ড. বি. আর. আম্বেদকরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে মুক্ত করে দেশীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মনির্ভরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি আদর্শিক প্রকল্প হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
