শীতকাল এলে যে কেবল সর্দি, কাশি, জ্বরের বাড়বাড়ন্ত দেখা যায় সেটাই নয়। একই সঙ্গে বাড়ে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মতো রোগ। বাদ যায় না গাঁটের ব্যথা। যাঁদের দীর্ঘদিনের গাঁটের ব্যথা তাঁদের এই সময় যেন আরও বেশি করে ভুগতে হয়। হাত, পা ফুলে যাওয়া, নাড়াতে না পারার মতো সমস্যা দেখা যায়। ওষুধ এবং ব্যায়াম তো আছেই এই যন্ত্রণা, ব্যথা থেকে আরাম দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ভরসা রাখতে পারেন খাবারের উপর। এই নির্দিষ্ট খাবারগুলো শীতের মরশুমে গাঁটের ব্যথা কমায়। আরাম দেয়। জেনে নিন এই সময় কোন খাবার খেলে গাঁটের ব্যথা থেকে নিষ্কৃতি পাবেন। ছবি - সংগৃহীত
2
9
১. চর্বি যুক্ত মাছ ভীষণই উপকারী প্রদাহ কমানোর জন্য। স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেলের মতো মাছগুলো ওমেগা ৩ ফ্যাটে ভরপুর। এই মাছগুলো নিয়মিত খেলে প্রদাহ কমে। হাঁটাচলার সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যায়। রোজ না হলেও সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ছবি - সংগৃহীত
3
9
২. হলুদ তো ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরের একটি চেনা মশলা। ডাল হোক মাছের ঝোল, মাংস, সবেতেই একটু হলুদ গুঁড়ো না দিলে চলে না। কিন্তু জানেন কি কারকুমিনে ভরপুর এই মশলা বহু প্রাচীন সময় থেকে ফোলাভাব কমাতে, গাঁটের ব্যথা থেকে নিষ্কৃতি পেতে ব্যবহার করে আসা হচ্ছে? যে কোনও রান্নায় যেমন হলুদ ব্যবহার করছেন, সেটার পাশাপাশি চেষ্টা করুন গরম দুধে একটু হলুদ ফেলে খাওয়ার। এমনকী শীতকালে অনেকেই স্যুপ খান, তাতেও সামান্য হলুদ মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। একই সঙ্গে খাবারে অল্প করে হলেও গোলমরিচ দিয়ে দিন, এতে হলুদে থাকা কারকুমিন শরীরে ভাল ভাবে শুষে নেবে। ছবি - সংগৃহীত
4
9
৩. আদাও একই ভাবে কাজ করে। এটি রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। প্রদাহ কমায়। আর এই দুটোর কারণে শীতকালে বেড়ে যাওয়া গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে। তাই শীতকালে আদা চা খান। এছাড়া যে কোনও রান্নায় আদা থেঁতো করে খাবারে মিশিয়ে খেতে পারেন। ছবি - সংগৃহীত
5
9
৪. সবুজ শাক, সবজি খান এই সময় বেশি করে। পালং শাক, মেথি শাক, ইত্যাদির মতো শাক রোজকার খাবার পাতে রাখুন। এতে ভরপুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, একই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন জরুরি পুষ্টিগুণ যা গাঁটের টিস্যুকে ভাল রাখতে উপকারী। নিয়মিত শাক, সবজি খেলে হাড় শক্ত হয়, প্রদাহ দূরে থাকে। ছবি - সংগৃহীত
6
9
৫. স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি ইত্যাদির মতো ফল খান। এতে ভিটামিন সি এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফোলাভাব কমায় এবং জয়েন্টের হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। ছবি - সংগৃহীত
7
9
৬. বাদাম খান। আমন্ড, ওয়ালনাট, চিয়া সিডস, ইত্যাদিতে প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং খনিজ উপাদান ভরপুর রয়েছে। এগুলো নিয়মিত খেলে হাড় ভাল থাকে, প্রদাহ কমে। রোজ যদি এমনই বিভিন্ন ধরনের বাদাম খান বা দইয়ে মিশিয়ে বা স্যালাডের সঙ্গে খান উপকার পাবেন। ছবি - সংগৃহীত
8
9
৭. অলিভ অয়েলও গাঁটের ব্যথা দূর করে। এতে একটি প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, ওলিওক্যান্থাল। এটি প্রদাহ রোধ করে। রান্নায় শীতকালে সর্ষের তেলের বদলে এটি ব্যবহার করতে পারেন। ছবি - সংগৃহীত
9
9
এই খাবারগুলো ছাড়া, শীতকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া জরুরি। শীতের মরশুমে অনেকে সঠিক পরিমাণ জল খান না। কিন্তু সেটা করা ঠিক নয়। শীতের মরশুমে শুকনো শীতল বাতাস জয়েন্টের তরলকে গাঢ় করে দেয়, যে কারণে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে রক্ত এবং এই ফ্লুইড পাতলা থাকে। ছবি - সংগৃহীত