আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিগারেটের প্যাকেট কিনতে গিয়ে মুদির দোকানে একটি ৫০০ টাকার জাল নোট দেওয়াই কাল হল অপরাধীদের। কর্ণাটক পুলিশের তদন্তে বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে চলা একটি বড়সড় জাল নোট তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে রুদ্রেশ নামের এক এমবিএ গ্র্যাজুয়েটকে, যিনি পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী কিছুদিন আগেই একই অপরাধে জেল খেটে জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন।

পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত তামাকুরু জেলার সিএন হাল্লি তালুকের হোসাহাল্লি কাইমারা এলাকার একটি সাধারণ মুদির দোকান থেকে। গত ২ জুলাই, ৫৬ বছর বয়সী দোকানদার অঞ্জনা শেট্টি পুলিশকে জানান যে, একটি নীল রঙের মারুতি অল্টো গাড়িতে করে দুজন ব্যক্তি তাঁর দোকানে আসেন। তাঁরা একটি সিগারেটের প্যাকেট কেনেন এবং দাম মেটাতে ৫০০ টাকার একটি নোট দেন। অঞ্জনাদেবী তাঁদের ৩৭০ টাকা ফেরতও দেন। কিন্তু পরে নোটটি ভালো করে পরীক্ষা করতেই তাঁর খটকা লাগে এবং বুঝতে পারেন সেটি আসলে জাল। একটুও সময় নষ্ট না করে তিনি হুলিয়ারু থানায় একটি ডায়েরি করেন।

একটি সাধারণ মুদির দোকানদারের এই সতর্কতাই পুলিশকে পৌঁছে দেয় মূল অপরাধীর ডেরায়। পুলিশ ওই নীল রঙের অল্টো গাড়িটির গতিবিধি ট্র্যাক করতে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তদন্ত করতে করতে পুলিশ বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে মাদানায়াকানাহাল্লির কাছাকাছি গ্যাঙ্গনদানাহাল্লি এলাকায় একটি গোপন আস্তানার খোঁজ পায়। সেখানে হানা দিয়ে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে জাল কারেন্সি নোট এবং গ্রেপ্তার করা হয় রুদ্রেশকে।

তদন্তে নেমে পুলিশের চোখ চড়কগাছ। জানা গেছে, ধৃত রুদ্রেশ একজন উচ্চশিক্ষিত এমবিএ ডিগ্রিধারী। ২০২৪ সালেও দাবানগেরে পুলিশের হাতে একটি বড় জাল নোট চক্রের মূল হোতা হিসেবে ধরা পড়েছিলেন তিনি। সে সময় মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকার জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি শোধরানো তো দূরের কথা, উল্টো আবার নতুন করে গ্যাঙ্গনদানাহাল্লিতে জাল নোট ছাপানোর মেশিন বসিয়ে বসেন।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘরটি থেকে বহু জাল টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। এই চক্রটি ঠিক কত বড়, ইতিমধ্যেই কত টাকার জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর পেছনে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুরো চক্রটিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কর্ণাটক পুলিশ বর্তমানে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে।