আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে। তবু দেশে কেন চড়া মূল্যে বিকোচ্ছে জ্বালানি তেল? এই অভিযোগে এবার সরাসরি মোদি সরকারকে নিশানা করলেন আম আদমি পার্টি (আপ)-র প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। 

বৃহস্পতিবার তিনি দাবি তোলেন, লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ১০২ টাকা থেকে কমিয়ে অনতিবিলম্বে ৮২ টাকা করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম কমানোর পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। আপ শিবিরের অভিযোগ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে তার সুবিধা দিচ্ছে না তেল সংস্থাগুলিকে।

কেজরিওয়ালের স্পষ্ট কথা, “পেট্রলের দাম ১০২ টাকার বদলে লিটার প্রতি ৮২ টাকা হওয়া উচিত। ডিজেলের দামও কমানো দরকার।” আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের মানুষ কেন তার সুফল পাবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আপ সুপ্রিমোর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্ববাজারে অন্তত ছয় বার অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতে সেই অনুপাতে জ্বালানির দাম কমানো হয়নি। কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “এই দীর্ঘ সময়ে তেল সংস্থাগুলো যে বিপুল অঙ্কের বাম্পার মুনাফা করল, তা গেল কোথায়?” 

কেজরিওয়াল মনে করেন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমলে দেশের চড়া মূল্যবৃদ্ধি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমবে। ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী- সবাই স্বস্তি পাবে। আমজনতার পকেট কেটে তেল সংস্থাগুলিকে এভাবে মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন।

আম আদমি পার্টির এই আক্রমণের মুখে অবশ্য উল্টো যুক্তি খাড়া করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রল মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নামলেও, ভারতে এখনই পেট্রল-ডিজেল সস্তা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটের সময়ে যে চড়া দামে অপরিশোধিত তেল কেনা হয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এখনও সেই তেলই বিকোচ্ছে।

সূত্রে খবর, মে মাসের শেষের দিকে পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দু’মাস পর এই দাম বাড়ে। তবে বিশ্ববাজারের তুলনায় ভারতে দাম অনেকটাই কম বাড়ানো হয়েছিল, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের চড়া দামের একটা বড় ধাক্কা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, কম দামে পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজি বিক্রি করার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মোট ৭৪,৭৮১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট শুরু হওয়ার পর টানা চার মাস ধরে কেনা দামের চেয়ে কম মূল্যে তেল বিক্রি এবং রান্নার গ্যাসের বকেয়া ভর্তুকির জেরেই এই বিপুল লোকসানের বোঝা তৈরি হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের।