আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিনের পর দিন কুরুচিকর আচরণ কর্মীর সঙ্গে। অশালীন ভিডিও পাঠানো। হাসপাতালের এক কর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠানো এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে এক প্রাক্তন এইচআর ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযুক্তের নাম বাবু থমাস (৪৫)। তিনি পোনকুন্নমের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, বাবু একটি গির্জা পরিচালিত হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারী মহিলা ওই গির্জা হাসপাতালেরই এক সহকর্মী ছিলেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মহিলাকে দিনের পর দিন মোবাইলে কুরুচিকর ভিডিও পাঠাতেন এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতেন। বিষয়টি নিয়ে ওই মহিলা প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাবুকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে। তারপরেও অভিযুক্ত থামেনি।
এর পরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীদের দাবি, বাবু শুধু ওই মহিলা নন, হাসপাতালের আরও অনেক মহিলা কর্মীকেও একইভাবে উত্যক্ত করতেন। তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক মহিলা কর্মীকে পাঠানো অশ্লীল মেসেজ ও ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের বয়ানও নথিভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে এক কোরিয়ান তরুণীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, তল্লাশির অছিলায় ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেছেন বিমানবন্দরেরই এক কর্মী। এই ঘটনায় মহম্মদ আফান নামে ওই গ্রাউন্ড স্টাফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতিমধ্যেই তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ওই তরুণী নিজের দেশে ফেরার জন্য কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করার পর এক যুবক তাঁর পথ আটকান। তিনি নিজেকে বিমানবন্দরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, তরুণীর লাগেজে কিছু সমস্যা রয়েছে। এমনকী, বিমানবন্দরের জেনারেল কাউন্টারে গিয়ে তল্লাশি করালে তাঁর বিমান মিস হয়ে যেতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ, দ্রুত পরীক্ষার নাম করে ওই তরুণীকে পুরুষ শৌচাগারের কাছে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে যান আফান। সেখানেই তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করা হয়। তরুণী প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে জোর করে জড়িয়ে ধরেন এবং ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে সেখান থেকে চলে যান।
অপমানিত ওই তরুণী সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ ওই কর্মীর ‘কুকীর্তি’র প্রমাণ পায়। এর পরেই আফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে অভিযুক্ত যুবক 'এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস' নামক একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।
ঘটনাটিকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে অভিযুক্তের কর্মস্থল এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস। পাশাপাশি সংস্থার তরফে এও জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে তৎক্ষণাৎ ছাঁটাই করা হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে,বিদেশি যাত্রীর মানসিক হেনস্থার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে তারা। বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত জায়গায় একজন বিদেশি মহিলার সঙ্গে এমন অভব্য আচরণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
