আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে ফের সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল নিরাপত্তা বাহিনীর। মনে করা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য।

সূত্র মারফত খবর, কিশ্তওয়ারের সিংঘপুরা এলাকায় সন্ত্রাসবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। কর্ডন ও তল্লাশি অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল সন্ত্রাসবাদীদের গুলির মুখে পড়ে।

তারপরেই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী মুখোমুখি হতেই প্রাণ বাঁচাতে গোলাবর্ষণ শুরু করে জঙ্গিরা। তারপরেই দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।

সূত্রের দাবি, এলাকায় দুই থেকে তিনজন সন্ত্রাসবাদী এখনও লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

অভিযান এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি তছনছ করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা।

কিন্তু ইতিমধ্যেই ফের জঙ্গি সংগঠনগুলি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি, জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের একটি অডিও রেকর্ডিং সামনে এসেছে।

সেখানে তিনি দাবি করেছেন, এক হাজারেরও বেশি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য এই আত্মঘাতী বাহিনী  তাকে চাপ দিচ্ছে।

আত্মঘাতী হামলাকারীদের সংখ্যা প্রকাশ করলে দুনিয়াজুড়ে শোরগোল পড়ে যাবে। নিজের ভাষায় মাসপদ আজহারকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, "এই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা একজন নয়, দু'জন নয়, ১০০ জন নয়, এমনকী ১,০০০ জনও নয়। যদি আমি পুরো সংখ্যাটা বলে দিই, তাহলে আগামীকাল বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়ে যাবে।" 

অডিওতে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার 'শহাদত'-এর কথা তুলে বলেন, তাঁর সংগঠনের জঙ্গিরা নাকি কোনও পার্থিব সুবিধা চায় না, শুধু  'মৃত্যুর পরের জয়'-ই তাদের লক্ষ্য।

তবে, ওই অডিও রেকর্ডিংটির তারিখ এবং সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গি নেতা মাসুজ আজহার বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বিবৃতি দিয়ে আসছে।

২০০১ সালের সংসদ হামলা এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা-সহ বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছর ২২শে এপ্রিল পাহালগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে 'অপরেশন সিঁদুর' অভিযান চালায় ভারতীয় বাহিনী।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি (যার মধ্যে বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীর সদর দপ্তরও অন্তর্ভুক্ত)  লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী।

ওই হামলায় আজহারের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নিহত হন বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর হামলায় নিহত উমর মহম্মদ দিল্লি বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

উমর পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য ছিল। ২০১৯ সাল থেকে মাসুদ আজহারকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেই বছর বাহাওয়ালপুরে তার আস্তানায় অজ্ঞাত হামলাকারীদের চালানো এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে তিনি বেঁচে যান। তারপর থেকে তিনি মূলত লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়েছেন।