আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার বলাঙ্গির জেলায় একটি দলিত বস্তিতে বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠল। গ্রামবাসীদের দাবি, কেবল জাতিগত বৈষম্যের কারণেই তাঁদের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দিন ধরে এলাকায় পাইপলাইনের জল আসছে না। সেই সঙ্গে রাস্তার আলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। এক গ্রামবাসীর কথায়, "গ্রামের অন্য সব জায়গায় জল-বিদ্যুৎ থাকলেও আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যাতে আমরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারি।"
বস্তির এক মহিলা বাসিন্দার ক্ষোভ, "এক ফোঁটা পানীয় জল নেই। রাস্তায় আলো না থাকায় রাতে যাতায়াত করা যায় না। সরকার কথা দিয়েও কথা রাখেনি।"
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই কান্তাবাঞ্জির তহশিলদার বিশ্বনাথ খালখো আশ্বাস দিয়েছেন যে, একটি বিশেষ দল ওই এলাকা পরিদর্শনে যাবে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রসঙ্গত, স্কুল শিশুদের কাছে শিক্ষার মন্দির। কিন্তু হিমাচলের সিমলায় এক দলিত শিশুর কাছে সেই মন্দিরই হয়ে উঠল সাক্ষাৎ নরক। হাড়হিম অভিযোগ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এক বছর ধরে চলেছে লাগাতার অত্যাচার। যৌন নির্যাতন। অভিযোগ, কেবল তথাকথিত ‘নিচু জাত’ হওয়ার কারণেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-সহ তিন শিক্ষক মিলে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছেন মাত্র আট বছরের ওই ছাত্রের উপর। সম্প্রতি এই ভয়াবহ অত্যাচারের ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি সিমলার রোহরু মহকুমার একটি সরকারি স্কুলের। প্রথম শ্রেণির ওই দলিত ছাত্রের বাবা পুলিশে অভিযোগ করেছেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবেন্দ্র এবং আরও দুই শিক্ষক (বাবু রাম ও কৃতিকা ঠাকুর) মিলে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর ছেলেকে মারধর করতেন। ক্রমাগত মারের ফলে শিশুটির কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কান থেকে রক্তপাত শুরু হয় শিশুর। ব্যক্তি বলেন, "আমার ছেলে এখন স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।"
এখানেই শেষ নয়৷ অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটি এরপরই ছিল। ব্যক্তি জানান তাঁর ছেলের উপর কেবল যৌন নির্যাতন নয়, অমানবিক অত্যাচারও চালানো হয়৷ ছাত্রটির বাবার দাবি, ওই শিক্ষকেরা একদিন তাঁর ছেলেকে জোর করে স্কুলের শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁরা ভয় দেখিয়ে শিশুটির প্যান্টের ভিতরে একটি বিষাক্ত কাঁকড়াবিছে ঢুকিয়ে দেন! "একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার কীভাবে শিক্ষকেরা করতে পারলেন", এই প্রশ্নই এখন ছুড়েছেন অনেকে।
এহেন ভয়াবহ ঘটনার জেরে ছাত্রের বাবা স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। খবর অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক-সহ অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুধু মারধরের জন্য নয়, জাতিগত বিদ্বেষ ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনে জাতপাতের এই নোংরা রাজনীতি এবং তার জেরে একটি শিশুর ওপর হওয়া এই নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে হিমাচল।
















