আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে ফের সক্রিয় হতে পারে এল নিনো—এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদদের একাংশ আরও সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে এটি ‘গডজিলা’ ধরনের শক্তিশালী এল নিনোতেও পরিণত হতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তন আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এল নিনো মূলত একটি জলবায়ু ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এই উষ্ণতা বিশ্বের আবহাওয়ার প্যাটার্নকে বদলে দেয়। ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ইতিমধ্যেই বিশ্বে তাপপ্রবাহ, খরা এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টির নজির তৈরি করেছিল। তাই ২০২৬-এর সম্ভাব্য এল নিনো নিয়ে আগাম উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর শক্তি নির্ভর করে সমুদ্রের তাপমাত্রা কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কতদিন তা স্থায়ী হচ্ছে তার ওপর। যদি তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেটিকে ‘স্ট্রং’ বা ‘সুপার’ এল নিনো বলা হয়—যাকে অনেকে ‘গডজিলা’ ইভেন্টও বলে থাকেন। ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের এল নিনো এমনই শক্তিশালী ছিল, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এল নিনো বছরের সময় ভারতীয় বৃষ্টি বা মনসুন দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, বিশেষ করে ধান, ডাল এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। খাদ্যদ্রব্যের দামও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার ঝুঁকিও বাড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে প্রবল বৃষ্টিপাত দেখা যায়, আবার অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই বৈপরীত্যই এল নিনোকে একটি জটিল ও প্রভাবশালী ঘটনা করে তুলেছে।
সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলির জন্যও এল নিনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সার্ফিং স্পটগুলিতে ঢেউয়ের ধরন এবং শক্তি বদলে যেতে পারে। কিছু জায়গায় বড় এবং শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হতে পারে, যা সার্ফারদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও ঝুঁকিপূর্ণও বটে। আবার কোথাও ঢেউ কমে গিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে পর্যটনে।
তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ২০২৬-এর এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রভাব স্পষ্ট হবে। আবহাওয়াবিদরা সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং বাতাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন।
&t=4s
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর সম্ভাব্য এল নিনো বিশ্ব অর্থনীতি, কৃষি এবং দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি—কারণ এটি শুধু একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং বিশ্বের প্রভাব বিস্তারকারী একটি শক্তিশালী জলবায়ু সংকেত।
