আজকাল ওয়েবডেস্ক: পথকুকুরের বাড়তে থাকা আক্রমণ নিয়ে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের। মঙ্গলবার আদালত জানিয়ে দিল, সরকারি অফিস, স্কুল, হাসপাতাল, বিমানবন্দর এবং সাধারণের বেশি ভিড় জমে এমন জায়গা থেকে পথকুকুর সরানোর যে নির্দেশ ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেওয়া হয়েছিল, সেটা যেমন ছিল তেমনই থাকবে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, আদালত বলেছে, যদি কোনও কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়, খুব অসুস্থ হয় বা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তাহলে আইন মেনে তাদের মৃত্যুদান করা যেতে পারে। 

এই মামলার শুনানি করেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া। তাঁদের কথায়, দেশের বহু জায়গায় শিশু, বয়স্ক মানুষ এমনকী বিদেশি পর্যটকরাও পথকুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তাই এই বিষয়ে সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। 

আদালত আরও জানায়, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ মনে মনে কুকুরের আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই রাস্তায় বের হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। শুনানিতে বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যও সামনে আনা হয়েছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১,৫০০টি কুকুরের কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। উদয়পুরে এ বছর ১,৭০০-র বেশি ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। তামিলনাড়ুতে এ বছর প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুও হয়েছে। 

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পথকুকুর দেখা গিয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। রানওয়ে ও টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও কুকুর ঢুকে পড়েছে, যা বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে আদালতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারগুলিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের বক্তব্য, পশু চিকিৎসা পরিষেবা বাড়াতে হবে, আশ্রয়কেন্দ্র উন্নত করতে হবে এবং টিকাকরণ অভিযান চালাতে হবে। 

এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা সৎভাবে কাজ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা এফআইআর করা যাবে না। এই রায়ের পর পথকুকুর সমস্যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মানুষের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পশুদের অধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।