আজকাল ওয়েবডেস্ক: মত্ত অবস্থায় স্কুলে প্রবেশ শিক্ষকের। যদিও নির্দিষ্ট সময়ে নয়, লাঞ্চের পর স্কুলে ঢুকেছিলেন তিনি। ছোট্ট ভুলের জন্য নাবালক পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল ওই মত্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের জেরে গুরুতর আহত ছ'বছরের পড়ুয়া। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের বলরামপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্লাসে সামান্য ভুলের জন্য ছ'বছরের এক নাবালক পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে অঙ্কের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, সেই সময় ওই শিক্ষক মত্ত অবস্থায় ছিলেন। শিক্ষকের মারধর গুরুতর আহত হয়েছে ওই নাবালক। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, স্কুলে মারধরের জেরে পড়ুয়ার চোখে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফুলে যায় মুখ। রক্তাক্ত হয় ওই পড়ুয়া। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে জাওয়াখাদি প্রাইমারি স্কুলে। লাঞ্চের পর অভিযুক্ত শিক্ষক উদয় যাদব স্কুলে ক্লাস করাতে আসেন। ক্লাসের মধ্যে এক পড়ুয়াকে অঙ্ক নিয়েই প্রশ্ন করেছিলেন। সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি নাবালক। তখনই রাগ চড়ে যায় অভিযুক্ত শিক্ষকের। 

সহপাঠীদের সামনেই পড়ুয়াকে একের পর এক চড়, থাপ্পড় মারতে শুরু করেন শিক্ষক। সেই মারধরের জেরেই পড়ুয়ার চোখে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে স্কুলে নির্যাতনের বর্ণনা করে পরিবারে। গুরুতর আহত পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর বাবা থানায় তড়িঘড়ি অভিযোগ দায়ের করেন‌। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, মত্ত অবস্থায় ওই শিক্ষক স্কুলে এসেছিলেন। অতীতেও একাধিকবার মত্ত অবস্থায় স্কুলে এসে একাধিক পড়ুয়াকে মারধর করেছেন। ঘটনার জেরে গ্রামেও তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

চলতি সপ্তাহে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। হোমওয়ার্ক না করার শাস্তি! চার বছরের খুদে পড়ুয়াকে গাছে ঝুলিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাছে ঝুলতে থাকে ওই পড়ুয়া। কান্নাকাটির পরেও তার রেহাই মেলেনি। যে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় গোটা রাজ্যে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরাজপুরের নারায়ণপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের হংস বাহিনী বিদ্যা মন্দির স্কুলে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে চার বছরের এক খুদে পড়ুয়া। হোমওয়ার্ক না করার জন্য স্কুলের মধ্যে তাকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এরপর তার জামাকাপড় খুলে, হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, স্কুলের মধ্যেই এক গাছে খুদে পড়ুয়াকে ঝুলিয়ে রেখে, কড়া শাস্তি দেন ওই দুই শিক্ষিকা। ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। স্কুলের পাশের এক বাড়ির ছাদ থেকে ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন এক যুবক। দেখা গেছে, নিরুপায় হয়ে গাছ থেকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল ওই পড়ুয়া। গাছের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজল সাহু ও অনুরাধা দেবাঙ্গন নামের দুই শিক্ষিকা। 

স্কুলে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা থাকে। সোমবার সকালে নির্দিষ্ট সময়েই স্কুলের দরজা খোলা হয়। নির্দিষ্ট সময়েই ক্লাস শুরু হয়। সেই সময় নার্পাসারি পড়ুয়াদের ঘরে ছিলেন কাজল সাহু। সকলের হোমওয়ার্ক দেখছিলেন। সকলের মধ্যে শুধুমাত্র একজন পুরো হোমওয়ার্ক করে আসেনি। সেই ছাত্রের উপরেই রাগে ফুঁসতে থাকেন তিনি। 

রাগের মাথায় খুদে পড়ুয়াকে ক্লাস থেকে বের করে দেন। এরপর তার শার্টের সঙ্গে দড়ি বেঁধে স্কুল প্রাঙ্গণের একটি গাছে ঝুলিয়ে দেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেভাবেই গাছ থেকে ঝুলছিল সে। চিৎকার করে কান্নাকাটি করে তাকে নামানোর জন্য আর্জি জানায় ছাত্র। কিন্তু তাতেও তাকে নামিয়ে নেননি। ঘটনাটি ঘিরে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পড়ুয়ার পরিবার। এই ঘটনার পর দুই শিক্ষিকার দোষ স্বীকার করে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত শেষ করে পদক্ষেপ করবেন তাঁরা।