আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। সেই জলপথ দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই জল্পনা সপাটে খারিজ করে দিল দিল্লি। 

একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতে আটক তিনটি তেলের ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেওয়ার বদলে ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদ পথ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, এমন কোনও ‘রফা’ বা আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এদিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, “এই ধরনের কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আর যে তিনটি জাহাজের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি ইরানের মালিকানাধীন নয়।” 

উল্লেখ্য, পরিচয় ভাঁড়িয়ে সমুদ্রে বেআইনিভাবে তেল ও বিটুমিন আদানপ্রদানের অভিযোগে ‘অ্যাসফল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামে তিনটি ট্যাঙ্কারকে মুম্বইয়ের উপকূলে আটক করে রেখেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালীতে যে এখনও অনেক ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে, তা স্বীকার করেছে দিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল ওই জাহাজগুলিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। সেই উদ্দেশ্যে ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক স্তরে কথাবার্তা চলছে।”

অস্থিরতার আবহে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে মঙ্গলবার গুজরাটের ভাদিনার বন্দরে নোঙর করেছে ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘নন্দাদেবী’। তার আগে সোমবার ফিরেছে আরও একটি জাহাজ ‘শিবালিক’। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই জাহাজ ফিরলেও পারস্য উপসাগরে এখনও ভারতের ২২টি জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।