আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েক সপ্তাহজুড়েই চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। দৃষ্টিশক্তিও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। চোখ বারবার লাল হয়ে যাচ্ছিল, জল পড়ছিল। জ্বালা জ্বালা করছিল। সমস্যায় পড়ে ৩৫ বছরের ব্যক্তি গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকরা তাঁকে চোখে স্টেরয়েড, ড্রপ দিতে দিয়েছিলেন। খেতে দিয়েছিলেন ট্যাবলেট। কিন্তু এসব দিয়েও কাজের কাজ হচ্ছিল না। মেলেনি স্থায়ী সমাধান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ওই ব্যক্তির চোখের সমস্যা বাড়তে থাকে। আরও কমতে তাকে দৃষ্টিশক্তি।
চোখের সমস্য়ায় ক্রমশ দিশাহার হয়ে পড়ছিলেন যুবক। ফলে তিনি ভোপালের এইমস হাসপাতালে যান দেখাতে। ভোপাল এইমস-এ, চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। তাতেই তাঁরা দেখতে পান যে, ব্যক্তির চোখে প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা একটি জ্যান্ত পোকা রয়েছে, যা জীবন্ত কৃমি বলে জানান চিকিৎসকরা। দেখা যায় যে, ওই কৃমিটি ব্যক্তির চোখের মধ্যে জেলের মত থকথকে অংশে আটকে রয়েছে।
এইমসের চিকিৎসকদের মতে, ব্যক্তির চোখে কৃমির অবস্থান ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সমগ্র বিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩-৪টি ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা রিপোর্ট মিলেছে। কৃমি বার করতে ভোপাল এইমসের প্রধান রেটিনা সার্জন ডাঃ সমেন্দ্র কারকুরের নেতৃত্বে ওই ব্যক্তির চোখে অস্ত্রোপচার হয়। এই অস্ত্রোপচারে, আশেপাশের সূক্ষ্ম রেটিনার কাঠামোর ক্ষতি না করেই কৃমিটি অপসারণের চেষ্টা করা হয়। সেই সময়ে কৃমিটি পালানোর চেষ্টা করেছিল, ফলে অস্ত্রোপচার আরও জটিল হয়েছিল। তবে, ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জারি কৌশল ব্যবহার করে চিকিৎসকরা সফলভাবে চোখ থেকে কৃমিটি বার করেছিলেন।
কীভে চোখের মধ্যে ঢুকলো কৃমিটি? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে, এই ধরণের পরজীবী কৃমি কাঁচা বা কম রান্না করা মাংস খাওয়ার ফলে শরীরে প্রবেশ করে। এই কৃমি ত্বক, মস্তিষ্ক এবং চোখের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে যায়। এরকম হলে, স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ভোপালের এইমসের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে এই প্রথম এমন ঘটনার সাক্ষী হলেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রোগীকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
