আজকাল ওয়েবডেস্ক: পড়াশোনা বা চিকিৎসা নয়, তলে তলে চলত মাদকের কারবার। কেরলের তিরুবনন্তপুরমে এক বড়সড় মাদকচক্রের হদিস পেল পুলিশ। এই ঘটনায় এক চিকিৎসক ও ডেন্টাল বিভাগের পড়ুয়াসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে এমডিএমএ ও দামী হাইব্রিড গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক বিঘ্নেশ দথন এবং বিডিএস ছাত্রী হ্যালিনা। এ ছাড়াও অবিনাশ নামে এক আইটি কর্মী এবং অসীম, অজিত, আনসিয়া ও হরিশ নামে আরও কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আগেও মাদক পাচারের মামলা ছিল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ কানিয়াপুরম থোপ্পিল এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় মাদক। যার বাজারদর বেশ চড়া। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মূলত বেঙ্গালুরু থেকে মাদক এনে স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিত। প্রতি গ্রাম হাইব্রিড গাঁজা প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করত তারা। মাদকের পাশাপাশি দুটি গাড়ি, দুটি বাইক এবং দশটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তবে এই অপারেশনটি ছিল রীতিমতো ফিল্মি কায়দায়। এর আগে একবার পুলিশ এদের ধরার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা গাড়ির ধাক্কায় পুলিশের জিপ দুমড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু এবার আর পার পায়নি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ বাহিনী। তাতেই কেল্লাফতে। পুলিশের জালে ধরা পড়ে পুরো দলটি।

অন্যদিকে, গোয়ার নীল জলরাশি আর ছুটির আমেজ- ঠিক এই মোহেই আচ্ছন্ন হয়েছিলেন হায়দরাবাদের হাসা। কিন্তু স্রেফ ‘কৌতূহল’ মেটাতে গিয়ে যে জীবন এমন ওলটপালট হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করেননি বঞ্জারা হিলসের এই বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, গোয়ার সৈকতে একবার বিশেষ ধরণের নেশার স্বাদ নিয়েছিলেন ৪৭ বছরের প্রৌঢ়া। আর সেই এক বারই কাল হল। সাজানো সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে এখন শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে তাঁর।

তেলেঙ্গানার মাদকদমন শাখা ‘ইগল’-এর জালে ধরা পড়েছেন হাসা। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গোয়ায় গিয়ে প্রথমবার মাদক নেন তিনি। এর পর মাত্র কয়েক মাসেই বদলে যায় জীবনের অভিমুখ। নেশার টাকা জোগাড় করতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ছুটতে শুরু করেন। এক সময়ের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য নেশার ঘোরে নিজেই হয়ে ওঠেন মাদক পাচারকারীদের বাহক।

চিকিৎসকদের মতে, এমডিএমএ-র মতো মাদক মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। সাময়িক যে ‘উত্তেজনা’ বা আনন্দ পাওয়া যায়, তার রেশ কাটলেই শুরু হয় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই আসক্তরা বারবার মাদকের নেশায় বুঁদ হন। যা রীতিমত ভয়াভহ আকার ধারণ করে।

নতুন বছর শুরু হওয়ার ঠিক আগে হাসা গ্রেপ্তার হন। আর এই কাজকে সম্প্রতি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। ইগল ফোর্সের শীর্ষ কর্তা সন্দীপ শাণ্ডিল্যর সাফ কথা, "সাময়িক উত্তেজনা যেন সারা জীবনের অন্ধকার ডেকে না আনে।” গত দশ দিনে হায়দরাবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৮০ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোট ১৭টি অভিযানে কোমর বেঁধে নেমেছে ইগল ফোর্স।

রাজ্য সরকারও কড়া বার্তা দিয়েছে- মাদক কারবারে কোনও আপস নয়। শহরের বিভিন্ন নামী ক্লাব ও ট্রানজিট পয়েন্টে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রশাসনের আর্জি, উৎসবের মেজাজে সন্তানরা যেন কোনও মরণনেশার কবলে না পড়ে, সে দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সামান্য কৌতূহল যে মানুষকে স্থায়ী অপরাধী করে দিতে পারে, হাসার জীবন আজ সমাজের সামনে সেই কঠিন বাস্তবকেই তুলে ধরল।