আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি মেট্রোর কোচের ভিতরে এক মহিলা যাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে হস্তমৈথুন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির সাজা বহাল রাখল আদালত। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে আদালত।

দিল্লির সাকেত আদালতের অতিরিক্ত সেশনস বিচারক হরগুরুবারিন্দ্রা সিং জগ্গি অভিযুক্ত মহম্মদ তাহিরের করা আপিল খারিজ করে এই মন্তব্য করেন। তাহির এর আগে বিচারিক আদালতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ (মহিলা শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে কাজ) এবং ৩৫৪এ (যৌন হয়রানি) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।

রায়ের শুরুতেই বিচারক নারী নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতার বৃহত্তর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়, যেখানে মহিলাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যকে সম্মান জানানো হয় এবং একই সঙ্গে সমাজে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার জন্য আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে—এই বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা হয়। বিচারক বলেন, এই মামলাটি দেখিয়ে দেয় যে গণপরিবহনে যাতায়াতকারী মহিলারা এখনও নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল একটি চলন্ত মেট্রো ট্রেনের ভিতরে। বিপদে পড়ে ওই মহিলা যাত্রীকে কোচের ভিতরে থাকা জরুরি বোতাম চাপতে হয়েছিল সাহায্যের জন্য। বিচারক বলেন, “এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে মেট্রো ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট দ্রুত ও কার্যকর।” তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, গণপরিবহনে মহিলাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ শুধু শারীরিক নয়, গভীর মানসিক আঘাতও সৃষ্টি করে। এতে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৭ মার্চ অভিযোগকারী মহিলা দিল্লি মেট্রোর ইয়েলো লাইনে সাকেত থেকে হজ খাস স্টেশনের মধ্যে যাত্রা করছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত মহম্মদ তাহির তার পাশে দাঁড়িয়ে অশ্লীল আচরণ করতে শুরু করেন, তাকে লক্ষ্য করে তাকিয়ে থাকেন এবং স্পর্শও করেন।

পরিস্থিতি অসহ্য হয়ে উঠলে ওই মহিলা কোচের জরুরি বোতাম চাপেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযুক্তকে আটক করেন। পরবর্তীতে মেট্রো পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের ২৪ মে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ছায়া ত্যাগী তাহিরকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার সাজা দেন।

সেশনস আদালতে আপিল করে তাহির দাবি করেছিলেন যে ঘটনাটি নাকি ভিড়ের সময় ঘটেছিল, কিন্তু কোনও স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীকে আদালতে হাজির করা হয়নি এবং সিসিটিভি ফুটেজও পেশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ঠিক কোন স্টেশনে নেমেছিলেন তা নিয়েও অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়। তবে আদালত এই যুক্তি নাকচ করে জানায়, স্টেশনের নাম নিয়ে অভিযোগকারীর সামান্য বিভ্রান্তিকে বড় করে দেখানো হয়েছে এবং এটি মামলার মূল বিষয়ে প্রভাব ফেলে না।

এই মামলায় অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী আনন্দ কুমার পান্ডে। সরকারি পক্ষের হয়ে ছিলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সন্তোষ কুমার এবং ভুক্তভোগীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মেঘনা মুখার্জি।