আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিবস। সারা বিশ্বে যখন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিয়ে চর্চা চলছে, ঠিক সেই আবহেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারকে তুলোধোনা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর সাফ দাবি, বিজেপি এবং আরএসএস-এর শাসনে ভারতে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা’ আজ অপরাধের সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সত্য বলার জন্য সাংবাদিকদের কঠোর শাস্তি পেতে হচ্ছে।

রবিবার সকালে এক বার্তায় খাড়গে বলেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই স্তম্ভকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যারা সরকারের গুণগান করছে না বা জনস্বার্থে কঠিন প্রশ্ন তুলছে, তাদের কণ্ঠরোধ করতে ইডি (ED), সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

খাড়গের মতে, বিজেপি এবং আরএসএস নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা চরিতার্থ করতে সংবাদমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। স্বাধীনচেতা সাংবাদিকরা আজ কোণঠাসা। হয় তাদের সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নয়তো মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হচ্ছে।” কংগ্রেস সভাপতির দাবি, এই দমনমূলক নীতি আসলে ভারতের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক বড় আঘাত।

বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খাড়গে আশ্বাস দেন যে, সময় বদলাবে। তিনি স্পষ্ট জানান, ইন্ডিয়া (INDIA) ব্লক ক্ষমতায় এলে সংবাদপত্রের হারানো গৌরব এবং স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হওয়া সমস্ত অন্যায়ের বিচার হবে এবং তাঁরা যাতে নির্ভীকভাবে, কোনও  চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কাজ করতে পারেন—সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে (World Press Freedom Index) ভারতের অবস্থান বেশ খানিকটা নিচে নেমেছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের এই পরিস্থিতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খাড়গে আজ সেই প্রসঙ্গ টেনেই মোদি সরকারকে বিঁধেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের এই মরসুমে খাড়গের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের তথ্যের অধিকার এবং সাংবাদিকদের রুটি-রুজির সুরক্ষার প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছেন।

সব মিলিয়ে, প্রেস ফ্রিডম দিবসে খাড়গের এই আক্রমণ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দেশের সংবাদমাধ্যমের অন্দরে চলতে থাকা দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভেরই এক বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।