আজকাল ওয়েবডেস্ক: যমুনার শান্ত জলে মিশে গেল উৎসবের আনন্দ। মথুরার বৃন্দাবনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫। সোমবার উদ্ধারকারী দল নদী থেকে আরও দু’টি দেহ উদ্ধার করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিলের সেই অভিশপ্ত বিকেলের স্মৃতি উসকে দিয়ে আজও নদীপাড়ে স্বজনহারাদের কান্নার রোল থামেনি।
উদ্ধার হওয়া দু’টি দেহের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা যশ ভাল্লা, যিনি পরিচিত মহলে যুবরাজ নামেও পরিচিত ছিলেন। অন্য দেহটি মণিকা নামের এক মহিলার। কেশী ঘাটের অদূরে দেবরাহা বাবা ঘাটের কাছ থেকে যশের দেহটি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকায় এবং স্রোতের আঘাতে দেহটি বেশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র সদস্যরা দেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে যমুনার বুকে তল্লাশি জারি রেখেছে উদ্ধারকারী দলগুলো। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে এনডিআরএফ-এর পাশাপাশি ভারতীয় সেনার ‘স্ট্রাইক ওয়ান কোর’-এর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে নদীর দুর্গম কোণগুলোতেও সন্ধান চালানো যায়।
দুর্ঘটনার শিকড় খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১০ এপ্রিল বিকেলে যখন পাঞ্জাবের লুধিয়ানা এবং মুক্তসর থেকে আসা প্রায় ১৫০ জন পুণ্যার্থীর দলটি বৃন্দাবনে পৌঁছেছিলেন, তখন এক মুহূর্তের অসতর্কতা সব শেষ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী (প্রায় দুই ডজনেরও বেশি) উঠেছিলেন। কেশী ঘাটের গভীর জলের দিকে যাওয়ার সময় নৌকাটি একটি ভাসমান বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, জলস্তর বাড়ার কারণে খুলে রাখা অস্থায়ী ব্রিজের ড্রামগুলোর সঙ্গেই হয়তো ধাক্কা লেগেছিল নৌকাটির।
পাঞ্জাব থেকে আসা সেই পুণ্যার্থীদের ভিড়ে এখন শুধু হাহাকার। প্রিয়জনদের অন্তত শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় নদীর পাড়ে বসে আছেন অনেকে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ এই তল্লাশি অভিযান চলবে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।















