আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে দাউদ ইব্রাহিমের পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটল। অবশেষে ক্রেতা পাওয়া গেল চারটি জমির। জমিগুলি রত্নগিরি জেলার মুম্বাকে গ্রামে অবস্থিত। গ্রামটি দাউদ ইব্রাহিম কাসকর-এর পৈতৃক গ্রাম বলে পরিচিত। 

কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে এই জমিগুলি নিলাম হয় ৫ মার্চ, ‘স্মাগলারস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ম্যানিপুলেটরস’ অর্থাৎ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ আইন (‘এসএএফইএমএ’ আইন) মেনে। 

চারটি জমির মধ্যে একটির দর ১০ লক্ষ টাকার বেশি দেন মুম্বইয়ের এক ব্যক্তি। বাকি তিনটি জমির মোট দামের চেয়েও ওই একটি জমির দাম বেশি। তবে ওই বাকি তিনটি জমি কেনেন একজন ক্রেতাই। 

এই জমিগুলি আগে কাসকর পরিবারের অর্থাৎ ইব্রাহিমের পরিবারের নামে ছিল। বিশেষ করে তার মা আমিনা বাই-এর নামে। ৯০-এর দশকে জমিগুলি বাজেয়াপ্ত করার পরে তা চলে আসে কেন্দ্র সরকারের অধীনে। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জমি বিক্রির চেষ্টা চারবার করা হয়েছিল। ২০১৭, ২০২০, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে নিলাম ডাকা হয়। কিন্তু কোনও ক্রেতা এগিয়ে আসেনি। 

এর প্রধান কারণ ছিল ভয় এবং বিতর্ক। দাউদ ইব্রাহিমের নামের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেকেই দূরে থাকেন। পাশাপাশি ‘ডি-কোম্পানির’ ছায়াও ক্রেতা না পাওয়ার পিছনে একটি বড় কারণ হিসাবে ধারণা করা হয়েছিল। এছাড়াও জমিগুলির অবস্থাও খুব একটা সুবিধাজনক নয়। শুধুমাত্র কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে। তাই দ্রুত লাভের সম্ভাবনাও কম। 

২০২৫-এ এই জমিগুলির দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছিল। তবুও কোনও ক্রেতার ছায়াও দেখা যায়নি।কিন্তু এইবার পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। একজন ক্রেতা সব শর্ত পূরণ করে এগিয়ে এসেছেন। 

তবে বিক্রয়কেন্দ্রীক সকল প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে পুরো টাকা জমা দিতে হবে। তারপর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বলে জানা যায়। 

এই সম্পত্তি নিয়ে এর আগে বিতর্কও কম হয়নি। দিল্লির আইনজীবী অজয় শ্রীবাস্তব একাধিকবার এই নিলামে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১-এ তিনি মুম্বইয়ে দু'টি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু এখনও সেগুলির দখল পাননি বলে তার দাবি। ট্রাস্ট তৈরির পরিকল্পনায় ২০২০ সালে তিনি মুম্বকে গ্রামের একটি বাড়িও কিনেছিলেন। ২০২৪ সালে একটি ছোট প্লটের জন্য ২.০১ কোটি টাকার দর দেন। কিন্তু পরে ধার্য্য টাকা না দেওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল হয়। 

দাউদ ইব্রাহিম ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়। সেই আক্রমণে ২৫৭ জন নিহত হন। এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। ভারতের দাবি, তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের করাচিতে থাকেন। এই দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলেও ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। তবে পাকিস্তান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে। 

সব মিলিয়ে, বহু বছর পর দাউদ-সংক্রান্ত সম্পত্তি বিক্রির পথে বড় অগ্রগতি এল। এটি প্রশাসনিক দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।