আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতে দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকায় দুর্ঘটনা। হঠাৎ একটি চারতলা বিল্ডিং হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত দু'জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে আট জন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলেই আশঙ্কা। রাতভর চলার পর রবিবার সকালেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া ফ্ল্যাট বাড়িটিতে একটি মেস, পেয়িং গেস্টের ব্যবস্থা, কোচিং ক্লাস, ক্যাফে এবং বেশ কিছু কর্পোরেট অফিস ছিল। দুর্ঘটনার সময়ে বাড়ির তৃতীয় তলায় কিছু নির্মাণকাজ চলছিল। এর পর শনিবার রাতে হঠাৎই বিকট শব্দে ধসে পড়ে বিল্ডিংটি। বাড়িটি মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স, দিল্লির দমকল বাহিনী, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং পুরনিগমের উদ্ধারকারী দল। দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার ভোর পৌনে চারটে নাগাদ ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯ জনকে বের করা সম্ভব হয়। তাঁদের এমস ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে 'রবি' নামে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর মেলে।

 

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "চারিদিকে শুধু চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ধসে পড়ার পর চারিদিক ধুলোয় ঢেকে যায়। তারপর দেখি, পাশের একটি ফ্ল্যাটের একাংশও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"

 

দুর্ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় উপচে পড়ে । অনেকেই অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের তরফ থেকে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের কাছে বাড়ির লোকের খোঁজ করেও উত্তর মিলছে না। এ দিকে পুলিশের থেকে স্থানীয় মানুষেরা দ্রুত হাত লাগিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ বছরের এক যুবক গৌরব কুমার জানান, তাঁর এক বন্ধু ওই বাড়ির মেসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। রাত থেকে ক্রমাগত ফোন করলেও ওই বন্ধু ফোন ধরেননি। অথচ ফোন ক্রমাগত বেজে চলেছে। ফলে চরম উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটছে তাঁর।

 

 

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। উদ্ধারকাজের জন্য সমস্ত রকম সরকারি সাহায্য করা হবে। তিনি বলেন, "আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সাহায্য করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবকটি সংস্থা সম্মিলিত ভাবে এই কাজ করছে।"

 

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শেষ ব্যক্তিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই অভিযান জারি থাকবে। তবে ভবনটি ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।