আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অ্যাসিড টেস্টেই বাজিমাত পাঞ্জাবের শাসক দল আম আদমি পার্টি বা আপ-এর। রাজ্যের পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিরোধীদের কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে বিপুল জয় পেয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। রাজ্যের ১,৯৭৭টি মিউনিসিপ্যাল ওয়ার্ডের মধ্যে ৯৫৮টি ওয়ার্ডে একাই জয়ী আপ। তবে এই ঝড়ের মধ্যেও কংগ্রেস ও বিজেপি যথাক্রমে কাপুরথালা এবং আবোহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশন নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে। রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ সাতজন প্রথম সারির নেতা সম্প্রতি আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় দলের অন্দরে ফাটল ধরার যে গুঞ্জন উঠেছিল, এই জয় সেই ক্ষতে মলমের কাজ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পাঞ্জাবের মোট ৮টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ৭৫টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল এবং ২০টি মিউনিসিপ্যাল কমিটির মোট ১,৯৭৭টি ওয়ার্ডে গত ২৬ মে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। ভোট পড়েছিল ৬৩.৯৪ শতাংশ। মোট ১,৯৭৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে আপ ৯৫৮, কংগ্রেস ৩৯৭, নির্দল ২৫১, শিরোমণি অকালী দল ১৯২, বিজেপি ১৭২ এবং বিএসপি ৭টি ওয়ার্ডে জিতেছে। আটটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মধ্যে ৫টি কর্পোরেশন (মোহালি, বার্নালা, বাটালা, মোগা এবং ভাতিন্ডা) দখল করেছে আপ। তবে কাপুরথালা কর্পোরেশনের ৫০টির মধ্যে ৩১টি ওয়ার্ড জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, আবোহর কর্পোরেশন নিজেদের দখলে নেওয়ার পাশাপাশি পাঠানকোটেও একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি ৭৫টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ও কমিটির মধ্যে আপ জিতেছে ৪০টিতে, কংগ্রেস ১৮টি, অকালী দল ১০টি এবং বিজেপি ৪টিতে। ২০টি কমিটির মধ্যে আপ ১১টি, কংগ্রেস ৫টি এবং অকালী দল ২টি জিতেছে।

 

এই বিপুল জয়ে উচ্ছ্বসিত পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান একে রাজ্য সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি জনগণের আস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, "পাঞ্জাবের মানুষ আমাদের ওপর বিপুল ভরসা দেখিয়েছেন এবং সব বিরোধী দলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ফলাফল ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগাম আভাস দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ইডি-কে ব্যবহার করে আমাদের নেতাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু পাঞ্জাবের মানুষ এই দাদাগিরি বরদাস্ত করেন না।"

আপ নেতৃত্ব একে ২০২৭-এর সেমিফাইনাল হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো নিয়ে একমত নন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কুলদীপ সিং জানান, পাঞ্জাবের ইতিহাস বলছে পুরভোটের ফল সবসময় বিধানসভায় প্রতিফলিত হয় না।

 

এদিকে আপ যখন জয়ের উৎসবে মত্ত, তখন বিরোধী দলগুলো সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। শিরোমণি অকালী দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিঠিয়া অভিযোগ করেছেন, আপ সরকার রাজ্য প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভোটের ফলে কারচুপি করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেসও ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, বিশেষ করে গিদ্ধরবাহা এলাকায়, যেখানে ১৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টিতেই জিতেছে আপ।