আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচনে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এলডিএফ) বিপর্যয়ের পর সিপিআই(এম)-এর অন্দরে বড়সড় রদবদল ঘটল। দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে সর্বসম্মতিক্রমে সিপিআই(এম) সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্তের পর বিধানসভায় কেরলের পরবর্তী বিরোধী দলনেতা হিসেবে পিনারাই বিজয়নই দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এলডিএফ-এর পরাজয়ের পর দুই মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন ক্ষমতা হারিয়েছেন। ১৪০ আসন বিশিষ্ট কেরল বিধানসভায় বামেরা এবার মাত্র ৩৫টি আসনে থিতু হয়েছে। অন্যদিকে, ১০২টি আসনে বিপুল জয় পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনকে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এম এ বেবির মতো শীর্ষনেতা ও পলিটব্যুরো সদস্য এ বিজয়রাঘবনের উপস্থিতিতে কে রাধাকৃষ্ণনের সভাপতিত্বে আয়োজিত রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিজয়নকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে গত সোমবার দলের পলিটব্যুরো বৈঠকে কেরল ইউনিটের ওপরই নতুন বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব ছাড়া হয়েছিল। দলের রাজ্য সচিবালয়ের সমস্ত সদস্য বিজয়নকে সমর্থন করায় তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়াটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, বিজয়নই দলের এবং ফ্রন্টের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা। এলডিএফ জিতলে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হতেন, তাই দল হেরে গেছে বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন না। তাছাড়া, পলিটব্যুরোর স্পষ্ট বার্তা ছিল যে এই হারের দায় দল ও ফ্রন্টের যৌথ, এককভাবে কোনও নেতার ওপর এর দায় চাপানো যায় না।

নির্বাচনে এই শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে ৭৭ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেতা হয়তো নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেবেন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে কে এন বালগোপালের মতো কোনো নাম উঠে আসতে পারে। কিন্তু দলের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে বিধানসভায় যখন বিজেপির তিনজন বিধায়ক উপস্থিত থাকছেন, তখন ফ্রন্টকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিজয়নই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। তিনি দলের একমাত্র পলিটব্যুরো সদস্য যিনি এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

তবে এই দুই দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক কিন্তু একেবারেই মসৃণ ছিল না। দলের সাংগঠনিক ত্রুটি এবং নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন সদস্যরা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সিপিআই(এম)-এর ধাঁচে আগস্ট মাসে কেরলেও একটি বিশেষ 'প্লেনাম' বা সাংগঠনিক অধিবেশন ডাকার দাবি উঠেছে। বিপর্যয়ের দায় নিয়ে রাজ্য সচিবালয় সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছেন অনেকে। কান্নুরের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হওয়া এবং পি কে শ্যামলার প্রার্থিপদ নিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। কান্নুরের দাপুটে নেতা পি জয়রাজনসহ একাধিক সদস্য রাজ্য নেতৃত্বের সাংগঠনিক খামতিগুলোর দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। দলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে কীভাবে বামেরা পরাস্ত হল, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, এসএনডিপি যোগম নেতা ভেল্লাপল্লি নাটেশনের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে দল সময়মতো কড়া অবস্থান না নেওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বামেদের থেকে দূরে সরে গেছে বলেও বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রথমে জেলা কমিটিগুলোতে আলোচনা হবে, যার পর আগামী ৫ জুন রাজ্য সচিবালয় এবং পরবর্তীতে দুই দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে দলের চূড়ান্ত নির্বাচনী পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি করা হবে।