আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর ঘিরে দেশীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সিপিসি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইইয়ানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল বিজেপি, আরএসএস এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। কিন্তু বিজেপি সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই কংগ্রেস শাসক দলের চীন নীতি নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়, বিজেপি সদর দপ্তরে সিপিসি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতির একদিন পর। কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা কটাক্ষ করে বলেন, চীনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বলে বিজেপি আসলে বেজিংয়ের জন্য ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ই সাজিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘লাল চোখ’ দেখানোর বদলে চীনা প্রতিনিধি দলের জন্য বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘লাল কার্পেট’।

তবে এখানেই থামেনি বিষয়টি। মঙ্গলবার ওই সিপিসি প্রতিনিধি দল কংগ্রেসের বিদেশ বিষয়ক বিভাগের প্রধান ও প্রবীণ নেতা সালমান খুরশিদের সঙ্গেও বৈঠক করে। এই প্রসঙ্গে পবন খেরা জানান, ওই বৈঠকটি সিপিসি প্রতিনিধি দলের অনুরোধে এবং ভারত সরকারের অনুমোদন নিয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেস বিদেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে আপত্তি করে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি কি এই বৈঠকে চীনের সঙ্গে ভারতের বিতর্কিত বিষয়গুলি তুলেছে?

খেরার অভিযোগ, বিজেপি কি কখনও অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ পাকিস্তানকে চীনের সহায়তার প্রসঙ্গ তুলেছে? অথবা লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর চীনের বারবার অনুপ্রবেশের বিষয়টি কি তারা সামনে এনেছে? কড়া ভাষায় খেরা বলেন, “‘লাল চোখ’-এর দাবি এখন বাস্তবে বিজেপির ‘লাল সেলাম’-এ পরিণত হয়েছে। দেশের কৌশলগত স্বার্থ, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ নীতির সারকথাই হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় স্বার্থে আঘাত করা।”

বিজেপির তরফে অবশ্য এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংয়ের নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল সিপিসি-র সঙ্গে বৈঠক করে। বিজেপির বিদেশ বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় চৌথাইওয়ালে জানান, দুই দলের মধ্যে আন্তঃদলীয় যোগাযোগ কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

সিপিসি প্রতিনিধি দল আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে। সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে, যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। আরএসএস ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ সূত্র এই বৈঠককে এশিয়ার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং একে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।

তবে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়েও কংগ্রেস তীব্র আপত্তি তুলেছে। পবন খেরার বক্তব্য, “অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিরা কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিকে প্রভাবিত করতে পারে?” তিনি সরকারের কাছে পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করে বলেন, সিপিসি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হওয়া সমস্ত বন্ধ ঘরের বৈঠকের এজেন্ডা, আলোচনার বিবরণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হোক।

সব মিলিয়ে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সংলাপেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীন প্রশ্নে বিজেপির অবস্থান ও বিরোধীদের আক্রমণের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।