আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কর্মক্ষেত্রগুলিতে, মহিলাদের জন্য ঋতুস্রাব চলাকালীন ছুটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের শীর্ষ আদালতের একটি শুনানির সময় উঠে আসে এই প্রসঙ্গ।
শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘ঋতুস্রাবকালীন ছুটিকে ঘিরে যদি কোনও আইন তৈরি হয়, তাহলে মহিলাদের চাকরির সুযোগ আরও কমে যেতে পারে।’
তাঁর মতে, অনেক সংস্থা তখন মহিলা কর্মী নিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করতে পারে। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী শৈলেন্দ্রমণি ত্রিপাঠী। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন, রাজ্য সরকারগুলিকে যেন কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য বেতনসহ ঋতুস্রাবের ছুটির নিয়ম তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, এমন আইন করলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। কিছু মানুষ মনে করতে পারে, মহিলা কর্মীরা পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম।
তাই বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে মহিলাদের জন্য ঋতুস্রাবের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। জাপান ১৯৪৭ সালে প্রথম এই ধরনের নিয়ম চালু করে।
জাপানে, এই ছুটির নাম সেইরি ক্যুকা। এই ছুটি মহিলাদের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তবে ছুটি বেতনসহ হবে কি না, তা ঠিক করে সংস্থাই। আবার ইন্দোনেশিয়াতে ১৯৪৮ সাল থেকে এই নিয়ম চালু রয়েছে।
সেখানে মহিলা কর্মীরা প্রতি মাসে দু’দিন বেতনসহ ছুটি পান। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ২০০১ সাল থেকে প্রতি মাসে ঋতুস্রাব চলাকালীন ছুটির নিয়ম রয়েছে। মহিলারা প্রতি মাসে একদিন ছুটি নিতে পারেন।
যদি কেউ সেই ছুটি ব্যবহার না করেন, তবে সংস্থার তরফে অতিরিক্ত বেতন দেওয়া হয় তাঁকে। জাম্বিয়াও এই নিয়ম চালু করেছে ২০১৫ সাল থেকে। ওখানে এই ছুটিকে স্থানীয়ভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
মহিলারা প্রতি মাসে একদিন করে ছুটি নিতে পারেন। এই ঋতুকালীন ছুটি নেওয়ার জন্য সংস্থাকে আগাম জানানোরও প্রয়োজন হয় না। তাইওয়ানে কর্মক্ষেত্রে, লিঙ্গ সমতাকেন্দ্রিক আইনের অধীনে এই সুবিধা রয়েছে।
মহিলারা বছরে তিন দিন ঋতুস্রাবের জন্য ছুটি নিতে পারেন। সাধারণত এই ছুটি অর্ধেক বেতনে দেওয়া হয়ে থাকে। আবার ভিয়েতনামে কর্মরত মহিলাদের দুটি বিকল্প দেওয়া হয়।
তারা চাইলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট অতিরিক্ত বিরতি নিতে পারেন। অথবা তিন দিনের ছুটি নিতে পারেন। স্পেনে হালে ২০২৩ সালে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। স্পেনই ইউরোপের প্রথম দেশ যেখানে মহিলাদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু হয়েছে।
স্পেনের আইনে বলা হয়েছে, ঋতুস্রাবের সময় তীব্র ব্যথার কারণে আসতে পারলে মহিলারা তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ছুটি নিতে পারেন। এই ছুটির খরচ সরকার বহন করে। এর ফলে মহিলাদের নিয়োগে পক্ষপাত কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে ঋতুস্রাবের ছুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা মত রয়েছে। কেউ মনে করেন, মহিলাদের স্বাস্থ্য ও স্বস্তির জন্য এই ছুটি অত্যন্ত প্রয়োজন। আবার কেউ বলেন, এতে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়তে পারে। ভারতেও এই বিষয়ে আলোচনা এখন আরও জোরদার হচ্ছে।
