আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরিয়ানি ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কিন্তু সাধের বিরিয়ানির প্লেটে যদি হুট করে একটা মরা মাছি ভেসে ওঠে? ভাবলেই গা গুলিয়ে ওঠে তো? ঠিক এমনটাই ঘটেছিল পুদুচেরির বাসিন্দা পি সুন্দরাকুমারা মণিকন্দনের সঙ্গে। গত বছরের ডিসেম্বরের এক রাতে বন্ধুকে নিয়ে তিনি এমজি রোডের 'বিরিয়ানি অ্যান্ড কোং' রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিরিয়ানি মুখে তুলতে গিয়েই তাঁর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়— ভেতরে পড়ে রয়েছে আস্ত একটা মরা মাছি।

সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অনেকে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করে চলে আসেন। কিন্তু মণিকন্দন বাবু চুপ করে থাকার পাত্র ছিলেন না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই নোংরা খাবারের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখেন এবং প্রমাণসহ গুগলে রেস্তোরাঁটির নামে একটি কড়া রিভিউ লিখে দেন। প্রথমে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ গুগলেই তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে একে একটি 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মণিকন্দন যখন দমে না গিয়ে তাঁদের আইনি নোটিশ পাঠান, তখন রেস্তোরাঁটি উল্টো সুর গেয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বসে।

বিষয়টি শেষমেশ গড়ায় পুদুচেরির জেলা উপভোক্তা ফোরামে (ভোক্তা অধিকার আদালত)। অদ্ভুত বিষয় হল, আদালতে মামলা ওঠার পর রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কেউ সেখানে হাজিরাই দেননি। ফলে আদালত একতরফা শুনানির পর মণিকন্দনের পক্ষেই রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, খাবারের মধ্যে মাছি থাকা এবং পরে রেস্তোরাঁর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ স্পষ্টতই গ্রাহক পরিষেবায় গাফিলতি। এর ফলে ওই ব্যক্তি যে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তার কোনও  ক্ষমা হয় না।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল আদালতের দেওয়া সাজা। রেস্তোরাঁটিকে মণিকন্দনের মানসিক কষ্টের জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচ বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি আদালত একটি অত্যন্ত অভিনব নির্দেশ জারি করেছে। বিরিয়ানি অ্যান্ড কোংকে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ নিখরচায় মণিকন্দনকে ১০ প্লেট একদম টাটকা ও স্বাস্থ্যকর হায়দরাবাদী চিকেন বিরিয়ানি খাওয়াতে হবে। তবে এই ১০ প্লেট বিরিয়ানি একবারে দেওয়া যাবে না। আগামী টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে প্রতি রবিবারে দুটি করে প্লেট মণিকন্দনের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে।

ভোক্তা আদালতের এই কড়া পদক্ষেপ যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় রসিকতাও চলছে দেদার। অনেকেই বলছেন, ক্ষতিপূরণের টাকা না হয় ঠিক আছে, কিন্তু যে দোকানের বিরিয়ানিতে মাছি পাওয়া গেল, আদালতের আদেশে সেই দোকানেরই বিরিয়ানি টানা পাঁচ রবিবার ধরে আয়েশ করে খাওয়ার জন্য সত্যিই একটু বাড়তি সাহসের প্রয়োজন!