আজকাল ওয়েবডেস্ক: ত্রিপুরার বছর কয়েকের পুরোনো দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-এর সাথে মিশে গিয়ে দিল্লির বুকে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেখান থেকেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশ্যে একটি চিঠিও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এই বিক্ষুব্ধ শিবিরটি নিজেদের NCPI-এর সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

এই পুরো পদক্ষেপের পেছনে একটি অত্যন্ত সুচতুর আইনি ও রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো কড়া চিঠির জবাবে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক স্পষ্ট দাবি করেছিলেন যে, শুধু লোকসভার সাংসদ সংখ্যা থাকলেই দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচা যাবে না, যদি না মূল দলটিরও কোথাও মার্জার বা একত্রীকরণ ঘটে। ত্রিপুরার এই নথিভুক্ত দলটির সাথে নিজেদের সম্পূর্ণ মিশে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা মূলত সুপ্রিম কোর্টের সেই আইনি জটিলতা এবং পদ খারিজের সম্ভাবনাকেই এড়াতে চাইলেন।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও এক মস্ত বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ত্রিপুরার এই বাঙালি-কেন্দ্রিক দলটি ইতিমধ্যেই এনডিএ (NDA)-র অংশ। ফলে সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়েও, এই দলটির হাত ধরে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদেরা কেন্দ্রের মোদী সরকারকে সমর্থন জানাতে পারছেন। একই সঙ্গে, এতদিন ত্রিপুরা ও অসমে সক্রিয় থাকা NCPI এবার এই হেভিওয়েট সাংসদদের কাঁধে ভর করে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও পা রাখতে চলেছে, যা আগামী দিনে বাংলার মাটিতে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।