আজকাল ওয়েবডেস্ক: সেই কবে থেকে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ফাটল। তাকে সামনে থেকে না দেখা গেলেও তার আগাম অনুমান করে নিয়েছে বিজেপি। তাইতো তারা বারে বারে শশীকে নিজেদের ঘরের মানুষ তৈরির কাজটি করে চলেছেন। ঠিক যেন একেবারে নিঃশব্দ বিপ্লব। আসলে শশীর কাছে এমন অনেক রহস্য রয়েছে যা হাত শিবিরকে সমস্যায় ফেলার পক্ষে যথেষ্ঠ। তবে এত সহজে কি হাল ছাড়বেন রাহুল-খাড়গেরা। তাই ফের একবার তাকে সবার অলক্ষ্যে ডেকে বুঝিয়ে দিলেন এখনই কংগ্রেস ছাড়ার সময় আসেনি শশীর।


কংগ্রেসের অন্দরমহলে মতভেদের জল্পনা চলার মাঝেই সংসদ ভবনে দলের সাংসদ শশী থারুর ও রাহুল গান্ধীর সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা মন্তব্য ঘিরে থারুরের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন গুঞ্জন চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকে ‘একই পাতায় থাকার’ স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।


সূত্রের খবর, সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। আলোচনায় চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা, সংগঠন মজবুত করার রূপরেখা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে। কথোপকথনে কোনও টানাপোড়েনের ইঙ্গিত ছিল না; বরং দলীয় ঐক্য ও সম্মিলিত কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে শশী থারুরের কিছু বক্তব্য ও লেখালেখি নিয়ে কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী বারবার দলের ভেতরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের কথা বলেছেন। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই সংসদে তাঁদের সাক্ষাৎ দলের ভেতরের আলোচনাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


কংগ্রেস সূত্রের দাবি, দলের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তা বিভাজনে রূপ নেয়নি। বরং বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ই কংগ্রেসের শক্তি। সংসদে সরকারকে প্রশ্ন করা, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া এবং জনতার সমস্যাকে সামনে আনা—এই লক্ষ্যেই নেতৃত্ব কাজ করছে।


এদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই সাক্ষাৎকে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বলে ব্যাখ্যা করলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব তা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতায় নানা মত উঠে আসবেই, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য একটাই—দেশের মানুষের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা পালন।


সব মিলিয়ে, সংসদে রাহুল গান্ধী ও শশী থারুরের সাক্ষাৎ কংগ্রেসের অন্দরমহলে চলা জল্পনাকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছে। দলীয় ঐক্য ও সম্মিলিত লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে এই বৈঠক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের দিকনির্দেশ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।