আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের প্রচারে বিজেপি শাসিত অসমে গিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র নিশানায় কংগ্রেস! হাত শিবিরকে "বিজেপির এ-টিম" হিসেবে অভিহিত করেছেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান। ওয়েইসির মতে, অসমে ভোটের আগে কংগ্রেসের বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, যা ভোটারদের মনে আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েইসি বলেন, "কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল, অথচ তারা বিজেপিকে রুখতে পারেনি। তাদের বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাই মানুষ এখন আর তাদের বিশ্বাস করে না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল প্রতীকী হলে চলবে না। এই লড়াই হতে হবে একেবারে তৃণমূল স্তরে বা 'মাঠে' নেমে। আর এর জন্য একটি স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। তারা (কংগ্রেস) আমাদের বিজেপির 'বি-টিম' বলে দেগে দেয়, কিন্তু অসমের পরিস্থিতিই প্রমাণ করে দেয় যে, আসলে কংগ্রেসই হল বিজেপির 'এ-টিম'।"

অসমের নির্বাচনী লড়াইয়ে 'পরিচয়' ও 'প্রতিনিধিত্ব'-কেন্দ্রিক রাজনীতি ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বদরুদ্দিন আজমলের দল 'এআইইউডিএফ'-এর সমর্থনে প্রচার চালাতে গিয়ে ওয়েইসি একদিকে যেমন সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন সুসংহত করার চেষ্টা করছেন, তেমনই তিনি বিজেপির শাসনব্যবস্থা এবং কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা—উভয়েরই তীব্র সমালোচনা করছেন।

এআইএমআইএম প্রধান বলেন, "আমরা এখানে এসেছি মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল এবং তাঁর দলের প্রার্থীদের সমর্থন জানাতে। আমি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভাগুলোতে বক্তব্য রাখছি। অসমের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও নিজস্ব নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করে এআইইউডিএফ। আর তাই মানুষ চায় এই দলকে আরও শক্তিশালী করতে। বর্তমানে মুসলিমদের কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং তাদের মর্যাদা ও সম্মানকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে, একটি স্বাধীন কণ্ঠস্বরের উপস্থিতি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।"

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তীব্র সমালোচনা করে ওয়েইসি প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে? তিনি বলেন, "বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই উচ্ছেদের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই হলেন দরিদ্র ও প্রান্তিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।"

এবারের অসম বিধানসবা ভোটে এআইএমআইএম প্রার্থীরা মোট ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যেকটি অসনেই মুসলিম ভোটারদের, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রাধান্য রয়েছে। তবুও ওয়েইসি এই নির্বাচনী লড়াইয়ের পরিসরকে কেবল ওই আসনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ওয়েইসি বলেন, "বর্তমানে যে ধরনের রাজনীতি চর্চা করা হচ্ছে, তা বৈষম্যমূলক এবং বহুলাংশে অসাংবিধানিক। একজন মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য হল সংবিধানকে মেনে শাসন পরিচালনা করা। অসমের মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই আমি এখানে এসেছি। আমি এই বিষয়গুলো তুলে ধরব এবং আশা করি মানুষ ন্যায়ের পক্ষেই ভোট দেবেন। আমরা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই এর বিরোধিতা করব এবং এই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলা ও প্রশ্ন তুলব।" 

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ওয়েইসিকে সতর্ক করেছেন। জানিয়েছেন, তিনি যেন কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য না করেন। হিমন্ত বলেন, '"আল্লাহ আকবার' ধ্বনি নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আসাদউদ্দিন ওয়েইসি যদি অসমের কোনও নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িক কোনও মন্তব্য করতে চান, তবে তাঁকে কী ধরনের 'চিকিৎসা' দেওয়া প্রয়োজন - তা আমি খুব ভাল করেই জানি। তিনি অত্যন্ত 'উত্তম চিকিৎসা' পাবেন এবং রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।"