আজকাল ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই।
নৈতিক কারণ দেখিয়ে তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। একই সঙ্গে ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রও নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাম মন্দিরের প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর উত্তরপ্রদেশ সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার এই মামলায় এফআইআরে নাম থাকা আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধৃত আটজনই মন্দিরে প্রণামী হিসেবে আসা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সম্প্রতি, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠন করা সিট সম্প্রতি প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, চোরাই সম্পত্তি হাতানো এবং ষড়যন্ত্রের মত অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, অযোধ্যা থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রণামী গ্রহণের ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাক্তন সমাজবাদী পার্টি বিধায়ক পবন পাণ্ডে অভিযোগ করেছিলেন, মন্দিরের অনুদানের থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের পর ট্রাস্ট নিজেই তদন্তের আবেদন করলে গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের সিট গঠন করে।
সিটের নেতৃত্বে ছিলেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ। তদন্তকারীরা অনুদান সংগ্রহ, টাকা গোনা ও সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন, আর্থিক নথি পরীক্ষা করেন এবং মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে প্রশাসনিক সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে রিপোর্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, রাম মন্দিরে আর্থিক তছরূপের অভিযোগে আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবিতে একটি পৃথক আবেদন সুপ্রিম কোর্টেও পেশ করা হয়েছে। তবে দ্রুত শুনানির মৌখিক আবেদন গ্রহণ করেনি শীর্ষ আদালত।
এই বিতর্ক ঘিরে বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি তুলেছেন।
তাঁর অভিযোগ, মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাতেই দুর্নীতি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, সরকার এই ঘটনায় ‘বড় মাছ’-দের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এমনকী, সিটের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তবে রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র চম্পত রাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে চম্পত রাইয়ের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। একই সঙ্গে ট্রাস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে সিইও নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।















