আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার বিচার বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) কর্তৃক ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি ও ঘুষের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে এক বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের বরাত দিয়ে ফোর্বস জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আদানির বিরুদ্ধে ফেডারেল জালিয়াতির অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঠিক আগেই, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাথে ভারতের আহমেদাবাদে একটি অত্যন্ত গোপন ও ব্যক্তিগত বৈঠক করেছিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে প্রভাব খাটানো এবং পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালত আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি ছিল, ভারতে বিশাল সৌরশক্তি প্রকল্পের বরাত নিশ্চিত করার জন্য গৌতম আদানি এবং তাঁর সহযোগীরা ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ২৫ কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এই বিষয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন অ্যান্টি-ব্রাইবারি আইন বা ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট (FCPA)-এর অধীনে আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছিল। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং আদানির সাথে ট্রাম্প জুনিয়রের এই বৈঠকের ঠিক সাত মাসের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আকস্মিকভাবে আদানির বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। একটি সংক্ষিপ্ত আবেদনে প্রসিকিউটররা জানান, তারা মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখেছেন এবং তাদের বিচক্ষণতা অনুযায়ী এই ফৌজদারি মামলার পেছনে আর কোনও অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের এই আকস্মিক ও নাটকীয় সিদ্ধান্তের পরই আদানির মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর শেয়ার বাজারে এক অভূতপূর্ব উত্থান ঘটে, যা তাঁকে সাময়িকভাবে এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির সিংহাসনে ফিরিয়ে আনে। ফলে আদানির ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে ট্রাম্প জুনিয়রের এই পূর্ববর্তী বৈঠকের কোনও সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ট্রাম্প জুনিয়রের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, এই ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সাথে বিচার বিভাগের মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের 'বিন্দুমাত্র কোনও সম্পর্ক নেই' এবং পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গোপন বৈঠকের খবরটি ফাঁসের পর মার্কিন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং বড় কর্পোরেটদের সাথে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে আবারও এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।















