আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজধানী এক্সপ্রেস—ভারতীয় রেলের আভিজাত্য, গতি আর উন্নত পরিষেবার শেষ কথা। কিন্তু সেই 'রেল রাজকীয়তা'র প্রথম অভিজ্ঞতাই এক তিক্ত স্মৃতিতে পর্যবসিত হলো সুদীপ্তা দেব নামে এক যাত্রীর কাছে। আরামদায়ক সফরের পরিবর্তে তাঁকে সাক্ষী থাকতে হলো এক অনভিপ্রেত পরিস্থিতির, যেখানে ট্রেনের কামরাটিকেই রীতিমতো নাচের আসর বানিয়ে ফেললেন সহযাত্রীদের একটি দল।

সুদীপ্তার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর সিটের ঠিক পেছনেই একদল মহিলা উচ্চস্বরে উল্লাসে মেতে উঠেছেন এবং কোমর দুলিয়ে নাচছেন। ট্রেনের সরু করিডোর বা যাতায়াতের পথ আটকে চলা এই নাচ একসময় সুদীপ্তার ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যেও ঢুকে পড়ে। বিষয়টি যে তাঁর কাছে চরম অস্বস্তিকর ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে ভিডিওর ক্যাপশনে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুদীপ্তা লিখেছেন, সাধারণ মানুষের 'সিভিক সেন্স' বা কাণ্ডজ্ঞান যে কতটা তলানিতে ঠেকেছে, এটা তারই প্রমাণ। তাঁর কথায়, "রাজধানী এক্সপ্রেসে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বাজে হল কারণ কিছু মহিলা ট্রেনের কামরাটিকে এমনভাবে নাচের জন্য ব্যবহার করছিলেন, যেন ওটা তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।"

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একপক্ষ সুদীপ্তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, গণপরিবহনে অন্যের ব্যক্তিগত আরাম বা শান্তি বিঘ্নিত করার অধিকার কারও নেই। একজন মন্তব্য করেছেন, "সমাজের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, মানুষের ন্যূনতম বোধটুকু নেই।"

অন্যদিকে, বিপক্ষ মতের মানুষজন এই ঘটনাটিকে 'নিছক আনন্দ' হিসেবেই দেখতে চাইছেন। এক ব্যবহারকারী তো কড়া ভাষায় সুদীপ্তাকেই আক্রমণ করে লিখেছেন, "ওরা নিজেদের মতো জীবন উপভোগ করছে। আপনার যদি এতই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজন হয়, তবে ফার্স্ট ক্লাস বা প্রাইভেট জেটে চড়ুন। থার্ড ক্লাসে এর চেয়ে বেশি কী আশা করা যায়?" যদিও তৃতীয় এক পক্ষ মনে করছেন, আনন্দ করায় কোনও  বাধা নেই, তবে তা যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়—সেই সচেতনতাটুকু থাকা উচিত ছিল।

রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে এই ধরণের আচরণ এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কটি আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল—পাবলিক স্পেস বা গণপরিসরে আমাদের স্বাধীনতার সীমা ঠিক কতটুকু? আনন্দ করার অছিলায় অন্যের অসুবিধা করা কি সত্যিই কাম্য? দুই দিন আগে পোস্ট করা এই ভিডিওটি ঘিরে বর্তমানে উত্তাল নেটপাড়া।