আজকাল ওয়েবডেস্ক: মণিপুরের তপ্ত পাহাড়ে নতুন করে রক্তপাত। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারালেন কুকি সম্প্রদায়ের তিন প্রভাবশালী চার্চ নেতা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। গত তিন বছর ধরে চলা গোষ্ঠীহিংসায় বিধ্বস্ত মণিপুরে এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে কুকি সংগঠনগুলি। তাঁরা হলেন রেভারেন্ড ভি. সিটলহৌ, রেভারেন্ড কাইগোলেন এবং যাজক পাওগোলেন। তাঁরা সকলেই 'থাডৌ ব্যাপটিস্ট অ্যাসোসিয়েশন'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, চুরাচাঁদপুরে চার্চ নেতাদের একটি বৈঠক সেরে দুটি গাড়িতে করে কাংপোকপি ফেরার পথে কোটজিম ও কোটলেনের মাঝামাঝি এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এই চোরাগোপ্তা হামলার নেপথ্যে রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ভুমথাং সিটলহৌ ছিলেন মণিপুরের ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। 'মণিপুর ব্যাপটিস্ট কনভেনশন'-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সিটলহৌ গত কয়েক মাস ধরে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ফেরানোর নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কাংপোকপি ভিত্তিক সংগঠন 'কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি'-র পক্ষ থেকে থাংতিনলেন হাওকিপ জানান, অতি সম্প্রতি কোহিমাতে কুকি ও নাগা প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন সিটলহৌ। এমন একজন শান্তির দূতকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পাহাড়।
এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা জানিয়ে 'কুকি ইনপি মণিপুর' একে "শান্তির ওপর সরাসরি আঘাত" বলে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই সুপরিকল্পিত হামলাটি চালানো হয়েছে জেলিরাং ইউনাইটেড ফ্রন্ট-এর পক্ষ থেকে, যদিও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "যিনি শান্তি ও পুনর্মিলনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর ওপর এমন নিষ্ঠুর হামলা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।"
নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "নিরপরাধ প্রাণ কেড়ে নেওয়া এবং এমন বর্বরোচিত হিংসার কোনও জায়গা সভ্য সমাজে নেই।"
২০২৩ সাল থেকে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চার্চ নেতাদের মৃত্যু শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলল। একদিকে পুরনো জাতিগত বিবাদ, অন্যদিকে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে দানা বাঁধা নতুন উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মণিপুরের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও, জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ উত্তরোত্তর বাড়ছে।















