আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিটু)-এর ১৮তম সর্বভারতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’, ভিবি-জি র্যাম জি আইন, সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (১০০ দিনের কাজ), ২০০৫ পুনর্বহাল ও আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি, ২০২৬) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সিদ্ধান্তগুলি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেন।
তিনি বলেন, ভিবি-জি র্যাম জি আইন একটি প্রতিক্রিয়াশীল ও পশ্চাদমুখী আইন, যার মাধ্যমে কার্যত রেগা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের কর্মসংস্থানের আইনগত অধিকার এবং বেকার ভাতা পাওয়ার অধিকার সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ হয়ে গেছে। এই আইন কর্মসংস্থানকে আর নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না বরং সরকারগুলির বিবেচনাধীন একটি প্রকল্পে পরিণত করেছে, যা শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
তপন সেনের অভিযোগ, নতুন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার তার আর্থিক দায় এড়িয়ে গিয়ে প্রকল্প ব্যয়ের ৪০ শতাংশের বোঝা রাজ্য সরকারগুলির ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, যা দেশের সংবিধান স্বীকৃত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। বহু রাজ্যের পক্ষেই এই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়, ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দুর্বল হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে রেগা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে কাজ করে এসেছে এবং সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধরে রেখেছে, কিন্তু নতুন আইন সেই ভিত্তিকেই ভেঙে দিয়েছে।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণীত নতুন শ্রম কোডগুলিকেও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়। সিটুর সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই শ্রম কোডগুলি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য নয়, বরং সংগঠিত শ্রম আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত চায় দেশে কোনও শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন না থাকুক। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছর ধরে শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্ট এখনও বেসরকারিকরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সম্মেলনে গৃহীত আরেকটি প্রস্তাবে ‘সাসটেইনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (শান্তি) আইন, ২০২৫’-এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এই আইন তড়িঘড়ি সংসদে পাশ করিয়ে পরমাণু শক্তি আইন, ১৯৬২ এবং নিউক্লিয়ার ক্ষতিপূরণ দায় আইন, ২০১০ বাতিল করা হয়েছে বলে সিটুর অভিযোগ। সংগঠনের মতে, এই আইন জনবিরোধী ও সার্বভৌমত্ব-বিরোধী, যার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগত শক্তির ক্ষেত্রকে দেশি-বিদেশি কর্পোরেট স্বার্থের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা, গণতান্ত্রিক নজরদারি এবং শ্রমিক অধিকার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সিটুর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মেলনের শেষে শ্রমজীবী মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম ও অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও ধারাবাহিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। সিটু নেতৃত্বের বক্তব্য, সংগঠিত প্রতিরোধ ছাড়া এই জনবিরোধী নীতির মোকাবিলা সম্ভব নয়।
