আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিয়ের বাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল আর্তনাদ আর আতঙ্কে। কয়েকটা রসগোল্লা বেশি খেয়ে ফেলেছিল ১১ বছরের এক শিশু, আর সেই ‘অপরাধে’ তাকে ফুটন্ত তন্দুরের আগুনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ক্যাটারিং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার মালৌলি গোসাই গ্রামে। অভিযুক্তের এই পৈশাচিকতায় শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল রাতে গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে নিজের দিদিমার সঙ্গে আমন্ত্রিত হিসেবে গিয়েছিল ১১ বছরের চমন ওরফে অমর। সে আদতে গোন্ডা জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বস্তিতে দাদু-দিদিমার কাছেই থাকছিল। বিয়ের বাড়ির খাবারের স্টলে রসগোল্লা দেখে লোভ সামলাতে পারেনি খুদে চমন। অভিযোগ, সে বারবার রসগোল্লার কাউন্টার থেকে মিষ্টি তুলে খাচ্ছিল। 

তা দেখে মেজাজ হারান ওই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ক্যাটারিং ঠিকাদার। প্রথমে তিনি শিশুটিকে ভয় দেখান এবং গালিগালাজ করেন। কিন্তু রাগ তাতেও কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে তুলে সটান জ্বলন্ত তন্দুরের (মাটির উনুন) মুখে বসিয়ে দেন।

বাঁচার জন্য শিশুটি ছটফট করতে শুরু করলে ভারসাম্য হারিয়ে সে তন্দুরের আগুনের মধ্যে পড়ে যায়। চামনের চিৎকার শুনে পরিজন এবং আমন্ত্রিতরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখায় শিশুটির মুখ থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের অনেকটা অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। 

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে লখনউ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তার শরীরের জখম বেশ গভীর।

এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ডেপুটি এসপি স্বর্ণিমা সিং জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত ক্যাটারিং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। পুলিশি দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

একটি মিষ্টির জন্য শিশুর ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার সমাজকে আবারও এক অন্ধকার বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নির্যাতিতের পরিবার ও এলাকাবাসী।