আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে 'ভারত রত্ন' সম্মানে ভূষিত করা হোক। ইতিমধ্যেই এই দাবি উঠেছে জেডিইউ থেকে। এবার সেই দাবিকেই সমর্থন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেক্যুলার)-এর প্রধান জিতন রাম মাজি। জিতেন রামের দল বিহারে শাসক এনডিও জোটের সরিক। ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে, এনডিএ-এর একাংশ বিহারের ন'বারের মুখ্যমন্ত্রীকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে ভূষিত করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জিকেন রাম মাজি নীতীশ কুমারকে "মাটির প্রকৃত সন্তান" হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, বিহারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য দুই দশকেরও বেশি সময় উৎসর্গ করেছেন নীতীশ। তিনি যুক্তি দেন যে, "জীবিকা" স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নে নীতীশ কুমারের অগ্রণী কাজ মনে রাখার মতো। এছাড়া, রাজ্য়ে মদ নিষিদ্ধকরণের পদক্ষেপকেও তারিফ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নীতীশের নীতিগুলোকে সাহসী সামাজিক সংস্কার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজি। প্রয়াত কর্পূরী ঠাকুরকে সম্প্রতি দেওয়া একই স্বীকৃতির যোগ্য। মাঞ্জির এই সমর্থনকে তার প্রাক্তন গুরুকে দেওয়া একটি কৌশলগত শান্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে রাজ্যে দলিত রাজনীতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কিছুদিন ধরে চলা প্রকাশ্য মতবিরোধের পর।
তবে, নীতীশকে 'ভারত রত্ন' দেওয়ার দাবি ঘিরে জেডি(ইউ)-এর মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। কে সি ত্যাগী, কুমারের "পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক পরিষেবা"-র ওপর জোর দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করলেও, দলের অন্যান্য পদাধিকারীরা এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
জেডিইউ সভাপতি সঞ্জয় ঝা-সহ জেডি(ইউ) দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নিঃসন্দেহে প্রতিটি সম্মানের যোগ্য হলেও, দল আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কারের জন্য তদবির করছে না। বিজেপি-ও এই বিষয়ে নীরব। এই সতর্ক অবস্থানকে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ বিজেপির সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কোনও মতভেদ চাইছে না জেডিইউ। উল্লেখ্য, 'ভারত রত্ন' সুপারিশের জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি বিজেপির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নীতীশকে 'বারত রত্ন' দেওয়ার দাবির সময়কাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে সমাজতান্ত্রিক নেতা কর্পূরী ঠাকুরকে ভারত রত্ন প্রদানের পর থেকে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে তাঁর উত্তরাধিকার দাবি করার জন্য একটি অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কুমারের পক্ষে কথা বলে মাজির মতো 'বন্ধু'রা আঞ্চলিক বিহারি অস্মিতাকে একীভূত করে "মহাদলিত" এবং "অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণী" (ইবিসি) ভোটব্যাঙ্ককে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিনয়ী ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য জেডি(ইউ) হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগীর মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখছে, কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বের কাছে অন্তর্নিহিত বার্তাটি স্পষ্ট- নীতীশ কুমারকে উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদারের অন্যতম মুখ্য প্রত্যাশা।
