আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে কিশোরের রক্তাক্ত দেহ। ছেলের মৃতদেহের ওপর আছড়ে পড়ে কাঁদছেন পরিজনেরা। ঠিক তখনই কয়েক হাত দূরে চলছে মাছ লুঠের উৎসব! বিহারের সীতামঢ়ী জেলার পুপরী থানা এলাকায় পথদুর্ঘটনায় এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু। আর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধরা পড়ল রাজ্যের চরম লজ্জাজনক এক ছবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম রিতেশ কুমার (১২)। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রিতেশ এদিন সকালে সাইকেল নিয়ে টিউশন পড়তে যাচ্ছিল। ঝাঝীহাট গ্রামের কাছে একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান মাঝরাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোরের। খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

কিন্তু অকুস্থলে উপস্থিত একদল মানুষের আচরণ দেখে স্তম্ভিত পুলিশও। খবর অনুযায়ী, ঘাতক গাড়িটি মাছে বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার জেরে প্রচুর মাছ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া বা সেই মুহূর্তে পুলিশে খবর দেওয়ার বদলে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেই মাছ কুড়োতে। কিশোরের নিথর দেহ পাশ কাটিয়ে কেউ গামছায়, কেউ বা ব্যাগে মাছ ভরে বাড়ি পালানোর প্রতিযোগিতায় নামেন।

পরে পুপরী থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ভিড় সরিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক গাড়িটিকে পুলিশ আটক করলেও চালক পলাতক। তার খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে কিছুদিন আগেই বিহারে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ডিভোর্স না দিয়েই তিন বছরে তিনটি বিয়ে। ‘সিরিয়াল ম্যারেজ’ বা ধারাবাহিক বিয়ের এক অদ্ভুত কীর্তি ফাঁস হতেই চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রথম দুই স্ত্রীর যৌথ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবক পিন্টু বার্নওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে খুশবু কুমারীর সঙ্গে পিন্টুর প্রথম বিয়ে হয়। খুশবুর দাবি, বিয়ের সময় পণ হিসেবে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও গয়না দেওয়া হয়েছিল পিন্টুকে। তবুও ক্রমাগত পণের দাবিতে তাঁর ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। জানা গিয়েছে, শেষমেশ তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুকাল পরেই খুশবু জানতে পারেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে পিন্টু দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ ছাড়াই সেরে ফেলেছেন তৃতীয় বিয়েটিও।

প্রতারিত হয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারীও। তাঁর অভিযোগ, পিন্টুর আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে তাঁকে বিয়ে করা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য তাঁর ওপরও নির্যাতন শুরু হয় বলে গুড়িয়ার দাবি।

পুলিশি হেফাজতে অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিন্টু। তাঁর যুক্তি, অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের দেখভালের জন্যই তিনি আবার বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। পিন্টুর উল্টো দাবি, আগের দুই স্ত্রীর কেউই ঘরের কাজ করতে চাইতেন না। এমনকী প্রথম স্ত্রী তাঁকে খুনের চেষ্টাও করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পিন্টুকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জেরা করা হচ্ছে৷ তাঁর তৃতীয় স্ত্রী এখন পিন্টুর বাড়িতেই রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। দুই স্ত্রীরই দাবি, পিন্টুর মতো মানুষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আপাতত সমস্ত দিক খতিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ৷