আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের সময় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার এক মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেবকে নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইতিহাসগতভাবে ভুল একটি মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বিরোধী আম আদমি পার্টি (AAP) কড়া সমালোচনায় নেমেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিধানসভায় প্রায় এক ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে ভাষণ দেওয়ার সময় দিল্লির ইতিহাস ও বিপ্লবী ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “দিল্লি ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেবের বিপ্লবের সাক্ষী, যখন তাঁরা বোবা-কালা কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বোমা ছুঁড়েছিলেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যই বিতর্কের সূত্রপাত করে। বিধানসভার সরকারি ওয়েবকাস্টের ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মাথায় এই বক্তব্য শোনা যায় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী আসলে ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বোমা মারার ঐতিহাসিক ঘটনার কথা বলতে চেয়েছিলেন। সেই বোমা ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীকী কর্মসূচি, যার লক্ষ্য ছিল কাউকে হত্যা করা নয়, বরং ঔপনিবেশিক সরকারের দমনমূলক আইন ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু বক্তব্যের সময় ‘ব্রিটিশ সরকার’-এর বদলে ‘কংগ্রেস সরকার’ শব্দটি ব্যবহার করায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ইতিহাস বিকৃতি বলে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা।
আম আদমি পার্টির বুরাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে এক্স-এ লেখেন, “আজ দিল্লি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জি ইতিহাসের একটি নতুন ‘আপডেটেড’ সংস্করণ পেশ করেছেন। শহিদ-ই-আজম ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেব, যাঁরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, তাঁদের এখন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হচ্ছে।” ঝা আরও লেখেন, ইতিহাস যেন এখন ‘রিমিক্স মোড’-এ চলছে।
AAP দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এই মন্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী গোটা দেশকে বিব্রত করেছেন। এমনকি স্কুলের শিশুরাও জানে যে ১৯২৯ সালে শহিদ ভগৎ সিং সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।” ভরদ্বাজের মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে এমন ভুল বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য।
এই বিতর্কের ফলে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ইতিহাসচর্চা ও ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের শহিদদের ভূমিকা ও তাঁদের সংগ্রামের লক্ষ্য নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর মন্তব্য জনজীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারের উচিত ইতিহাস সম্পর্কে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হওয়া, বিশেষ করে যখন কথা বলা হয় দেশের বীর শহিদদের নিয়ে।
