১৪ দিন চিনি না খেলে শরীরে কী হবে? উপকার না ক্ষতি, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮ : ৫৬
শেয়ার করুন
1
7
চিনি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে প্রসেসড খাবার ও পানীয়তে থাকা ‘অ্যাডেড সুগার’ বা অতিরিক্ত চিনি আজকাল স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
2
7
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে মানসিক ক্ষমতা হ্রাস এবং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গিয়েছে।
3
7
পুরোপুরি চিনি বাদ দেওয়া অনেকের কাছেই চরম মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের জন্য চিনি থেকে বিরতি নিলেই শরীরের উপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে, এইমস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, মাত্র ১৪ দিনের জন্য অ্যাডেড সুগার এড়িয়ে চললেই শরীরের বিপাকক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
4
7
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় কর্মরত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারেন না যে চিনি শুধু অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে না। এটি নিঃশব্দে খিদে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।
5
7
এই কারণেই তিনি তাঁর রোগীদের পরামর্শ দেন, অন্তত অল্প সময়ের জন্য অ্যাডেড সুগার থেকে বিরতি নিয়ে শরীরের পরিবর্তন নিজে অনুভব করতে। ডা. শেঠির মতে, শুরুর দিনগুলো কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। এই সময়ে চিনি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব এবং মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও ‘উইথড্রয়াল’ নয়, বরং কম চিনি নিয়ে কাজ করতে মস্তিষ্কের অভ্যস্ত হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “এটা কোনও নেশা ছাড়ার উপসর্গ নয়।”
6
7
শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসে মানিয়ে নিলে অনেকেই শক্তির মাত্রায় স্থায়িত্ব লক্ষ্য করেন। চিনি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা কমে আসে, পেট ফোলা ভাব কমে, বিকেলের দিকে হঠাৎ ক্লান্তি আসার প্রবণতা হ্রাস পায় এবং মনোযোগও বাড়ে। একই সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
7
7
ডা. শেঠি জানান, মাত্র দু’সপ্তাহ অ্যাডেড সুগার বাদ দিলেই ইনসুলিনের অপ্রয়োজনীয় ওঠানামা কমে, লিভারের উপর অতিরিক্ত চিনির চাপ হ্রাস পায়। এর ফলে বিপাকজনিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ভিসেরাল ফ্যাটও কমতে পারে।