আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাড়াবাড়িতে আগুন লেগে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। গত ৩ জানুয়ারি রাতে বেঙ্গালুরুর রামমূর্তি নগর এলাকার ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম শর্মিলা (৩৪)। তিনি মেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। শর্মিলা পেশায় এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী ছিলেন।
ঘটনাটি গত সপ্তাহের হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন রাতে সাড়ে ১০টা নাগাদ শর্মিলার ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন বাড়ির মালিক। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা। ততক্ষণে পুরো বাড়ি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। আগুন নেভানোর পর ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় শর্মিলাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পাশের একটি ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। সেই সময় শর্মিলার রুমমেট বাড়িতে ছিলেন না। আগুন লাগার পর ধোঁয়ার দাপটে সম্ভবত ঘর থেকে বেরোতে পারেননি শর্মিলা। নিজের ঘরের দরজা খুলতেই প্রচুর ধোঁয়া তাঁর নাকে-মুখে ঢুকে যায়। তাতেই শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে৷
অন্যদিকে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা৷ বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এসে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। তাঁর মা-ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুরজ শিবান্না (৩৬)। পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুতে সুরজের স্ত্রী গানভি (২৬) আত্মঘাতী হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাগপুরের একটি হোটেলে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সুরজকে। গানভির মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সুরজের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বিয়ে হয়েছিল এই যুগলের। মধুচন্দ্রিমার জন্য তাঁরা শ্রীলঙ্কায় গেলেও বিবাদের জেরে মাঝপথেই ফিরে আসেন। গানভির পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে চূড়ান্ত অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের মেয়েকে। সেই কারণেই তাঁরা গানভিকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু এর কিছুদিন পর গানভি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরেই সুরজ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মেয়েটির পরিবার। এমনকী সুরজের বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
চাপ সামলাতে না পেরে গত শুক্রবার মা জয়ন্তীকে নিয়ে বেঙ্গালুরু ছেড়ে নাগপুরে চলে আসেন সুরজ। জানা গিয়েছে, সেখানকার ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা। শনিবার সুরজের ভাই সঞ্জয় শিবান্না পুলিশকে ফোন করে দাদা ও মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানান। পুলিশ এসে সুরজের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। জয়ন্তীদেবীকে সঙ্কটজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
