আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোজ পুরনো খাবার পরিবেশন। স্ত্রীর কাণ্ডে রীতিমতো রাগে ফুঁসতে থাকেন স্বামী। নিত্যদিন হরেক রকমের রান্না করা নিয়ে দম্পতির মধ্যে ঝামেলাও শুরু। এই অশান্তির আবহেই চরম পদক্ষেপ করলেন ওই গৃহবধূ। অপমানে আত্মঘাতী হলেন তিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সি মৃত গৃহবধূর নাম, কাব্য। তিন দিনের পুরনো সাম্বার খেতে দেওয়ায় স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝামেলা চলছিল। এই দাম্পত্য কলহের জেরেই নিজেকেই নিজে শেষ করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার স্বামীর ওপর রাগ করে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। 

পাঁচ বছর আগে রাঙ্গাস্বামীর সঙ্গে কাব্যর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের চার বছর বয়সি এক শিশুকন্যা রয়েছে। জানা গেছে, তিন দিন আগে রান্না করা সাম্বার বারবার গরম করে পরিবেশন করছিলেন কাব্য। পুরনো খাবার খেতে আর ভাল লাগছিল না স্বামীর। যা ঘিরে প্রতিবাদ করেন, পুরনো খাবার আর খাবেন না। 

সামান্য কথা কাটাকাটি থেকেই ঝামেলা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। কাব্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন স্বামী। এরপরই সেদিন কীটনাশক খান তিনি।‌ ঘনঘন বমি হতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। বৃহস্পতিবারেই হাসপাতালে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসে আরও এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস হয়। তিন বছর আগে বিষধর সাপের কামড়ে এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছিল। অবশেষে ফাঁস হয়েছে স্বামীর কীর্তি। দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনামাফিক স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় স্বামী-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন বছর তদন্তের পর এক যুবতীর রহস্যমৃত্যুর ধোঁয়াশা কেটেছে। তিন বছর আগে স্ত্রীকে খুন করেছিলেন স্বামী। অবশেষে গ্রেপ্তার স্বামী ও তাঁর তিন বন্ধু। বদলাপুর থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষধর সাপ দিয়ে স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা ছিল স্বামীর। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সেই। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালে ১০ জুলাই বদলাপুর ইস্টে উজ্বালাদ্বীপ সোসাইটিতে নীর্জা রূপেশ আম্বেকর নামের এক যুবতীর রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের ক্রমেই সন্দেহ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেই অসংগতি খুঁজে পায় পুলিশ। 

দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, নিত্যদিন দাম্পত্য কলহের জেরে তিতিবিরক্ত ছিলেন ৪০ বছরের রূপেশ। স্ত্রীর সঙ্গে নিত্যদিন ঝামেলার বিষয়টি আরও দুই বন্ধুর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন। সেই দলেই সাপ উদ্ধারকজে পারদর্শী এক যুবককে যুক্ত করেন তাঁরা। সেই যুবক একটি বিষধর সাপ দিয়েছিলেন তাঁদের। সেই বিষধর সাপের কামড়েই যুবতীর মৃত্যু হয়। 

তিন বছর পর ফাঁস হয়েছে, পরিকল্পনামাফিক যুবতীকে খুন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এফআইআর রুজু করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।