আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাদে অন্তর্বাস শুকোতে দিলেই, তা উধাও। কারও বাড়ির ছাদ থেকে, কারও আবাসনের ব্যালকনি থেকে আচমকাই উধাও হয়ে যাচ্ছিল মহিলাদের অন্তর্বাস। একাধিক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেপ্তার এক তরুণ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটি ডিভিশনে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন আবাসন ও বাড়ি থেকে মহিলাদের অন্তর্বাস চুরি করার অভিযোগে ২৩ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহিলাদের অন্তর্বাস চুরি করে, সেগুলো পরে ছবি তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, হেব্বাগোডি এলাকায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকজন মহিলা। ছাদে, ব্যালকনিতে অন্তর্বাস শুকোতে দিলেই, হঠাৎ তা গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। পরপর কয়েকটি আবাসন ও বাড়ি একইসময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। এরপর ওই তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। 

ধৃত তরুণের নাম, অমল এন আজি। তিনি কেরলের বাসিন্দা আদতে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মহিলাদের অন্তর্বাস চুরি করে, সেগুলো পরে ছবি তুলতেন ওই তরুণ। এমনকী তাঁর ঘর থেকে মহিলাদের প্রচুর অন্তর্বাস উদ্ধার করেছে তারা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

গত বছর আগস্ট মাসে আরেকটি ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ছাদের একটি জায়গা ছিল ফাঁকা। সেখান থেকে উঁকি দিলেই দেখা যেত হস্টেলের স্নানঘরে। নিত্যদিন সেই ছাদ থেকেই স্নানঘরে উঁকি দিয়ে মেয়েদের স্নান করা দেখতেন। কখনও কখনও মোবাইল ফোনে ভিডিও তুলেও রাখতেন। টানা একবছর এমন কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। অবশেষে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এক দশম শ্রেণির ছাত্রী অভিযুক্ত যুবককে ধরিয়ে দেয় পুলিশের হাতে। তাকে গ্রেপ্তারের পরেই আরও কেচ্ছা ফাঁস হল‌। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে। হস্টেলের স্নানঘরে মেয়েদের স্নান করার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার অভিযোগ উঠেছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম, হিমাংশু রায়। সে হীরাপট্টি কলোনির বাসিন্দা।‌পরিবারের সঙ্গেই থাকে হিমাংশু। গত এক বছর ধরে ওই এলাকারই একটি হস্টেলে মেয়ের স্নানের মুহূর্তটি চুপিচুপি দেখত। অনেক সময় সেই দৃশ্য ফোনে ক্যামেরাবন্দি করত। 

গত রবিবার ওই হস্টেলের এক দশম শ্রেণির ছাত্রী স্নানঘরে ঢুকে দেখতে পায়, ছাদের একটি অংশ ফাঁকা। সেখানেই একটি মোবাইল ক্যামেরা চোখে পড়েছিল তার। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বাকিদের ডেকে আনে সে। তড়িঘড়ি করে ছাদে ওঠেন অনেকেই। হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই যুবক। তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, হিমাংশুর কীর্তি এর আগেও জানতে পেরেছিল হস্টেলের পড়ুয়ারা। অতীতে ছাত্রীদের ভিডিও দেখিয়ে হুমকি দিত সে। ছাত্রীদের হুমকি দিয়ে বলত, যদি পুলিশে বা কাউকে নালিশ করা হয়, তাহলে স্নানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেবে সে। 

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, হিমাংশুর ফোন ও ল্যাপটপ ঘেঁটে কমপক্ষে ৪০টি পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে। আরও অশ্লীল ছবি রয়েছে ফোন ও ল্যাপটপে। তিনি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'এক যুবককে হাতেনাতে ধরেছে ওই হস্টেলের পড়ুয়ারা। ওই পড়ুয়াদের স্নানের একাধিক ভিডিও তার ফোন থেকে পাওয়া গেছে। একবছর ধরে হস্টেলের মেয়েদের এই স্নানের ভিডিও সে তুলছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। ইলেকট্রিক ডিভাইসগুলি ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে।'