আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুর এক নামী ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারকে গত এক বছর ধরে হেনস্থার অভিযোগ। ক্রমাগত উত্যক্ত করা এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে হরিয়ানার এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযুক্তের নাম সুধীর কুমার। নির্যাতিতা নিজেও হরিয়ানার বাসিন্দা, তবে কর্মসূত্রে তিনি গত ১৫ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতেই থাকেন। এই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সকলে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাস থেকে ওই যুবতীকে নানাভাবে হেনস্থা করছিল সুধীর। মে মাসে হরিয়ানায় তাঁর পৈতৃক বাড়িতে গিয়েও সে চরম অশান্তি করে বলে অভিযোগ। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও সুধীর হোয়াটসঅ্যাপে লাগাতার কুরুচিকর ও হুমকিমূলক মেসেজ পাঠাতে থাকে। এমনকী বেঙ্গালুরু গিয়ে যুবতীকে যৌন হেনস্থা করার হুমকিও দেয় অভিযুক্ত।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে যুবতীকে একপ্রকার অতিষ্ঠ করে তুলেছিল অভিযুক্ত। ইনস্টাগ্রামে বারবার ব্লক করে দিলেও সে নতুন নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে কদর্য মন্তব্য চালিয়ে যেত। গত ১২ জানুয়ারি সে সটান বেঙ্গালুরুতে তাঁর জিমে পৌঁছে যায়৷ শুধু তাই নয়, সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বেঙ্গালুরু পুলিশ যৌন হেনস্থা ও পিছু নেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু করে সুধীরকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তকে জেরা করছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্ট করা ভিডিও ঘিরে অপমানের জেরে প্রাণ হারালেন ৪২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। কেরালার কোঝিকোড়ে ঘটনাটি ঘটে। তাঁর বিরুদ্ধে বাসে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। রবিবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই দীপক ইউ নামের ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ দীপকের সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের প্রতিবেশীরা। ঘরে ঢুকতেই দেখেন, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। দীপক একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। গত শুক্রবার কাজের সূত্রে কান্নুর যাওয়ার পথে বাসে এক যুবতী তাঁর বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও করেন।
পেশায় ইনফ্লুয়েন্সার ওই যুবতী ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছাড়লে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ সেটি দেখেন। পরিবারের দাবি, ভিডিওটি দেখার পর থেকেই দীপক ভীষণ ভেঙে পড়েন, এমনকী গত দু’দিন ধরেই কিছু খাননি। তাঁর বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের ছেলে নির্দোষ ছিলেন। কেবল জনসমক্ষে এই চরম অপমান ও লোকলজ্জা সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ছেলেকে হারিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে বিতর্ক দানা বাঁধতেই ওই যুবতী ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন। পরে নিজের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আর একটি ভিডিও পোস্ট করলেও সেটিও পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, সমাজকর্মী রাহুল ঈশ্বর ওই যুবতীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন।
