আজকাল ওয়েবডেস্ক: ত্রিপুরায় ভারতীয় সীমান্তে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বিএসএফের আপত্তি অগ্রাহ্য করে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে চলছে এই নির্মাণের কাজ। স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। উদ্বেগ বাড়ছে ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ এলাকায়। ত্রিপুরার উনাকোটি জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধরনের বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারতীয় ভূখণ্ডে ব্যাপক বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রিপুরার উনকোটি সীমান্ত এলাকায় জিরো পয়েন্ট লাগোয়া অংশে বাংলাদেশ সরকার ৬০ ফুট চওড়া এবং ২০ ফুট উঁচু পোক্ত বাঁধ নির্মাণ করছে। এই বাঁধ ভারতের কৈলাশহরের জনগণের জন্য অত্যন্ত শঙ্কার। বাংলাদেশের নির্মীয়মাণ বাঁধের তুলনায় ভারতের বাঁধ অত্যন্ত দুর্বল ও ছোট। দীর্ঘ দিন ধরেই সেই বাঁধের মেরামত হয়নি। ভারী বর্ষণ হলে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বর্ষার সময় বন্যায় ঢুববে কৈলাশহর। বিপন্ন হবে কয়েক শো গ্রামবাসী।
বুধবার, কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্য বিধানসভায় আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিএসএফ বার বার আপত্তি জানিয়েও বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করাতে পারেনি। বিএসএফের অভিযোগ, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসব আপত্তি উপেক্ষা করছে। এ নিয়ে উনকোটির জেলাশাসক দিলীপ কুমার চাকমা, অতিরিক্ত জেলাশাসক অর্ঘ্য সাহা, এবং গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সীমান্তের এই বাঁধ নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।
বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নির্দেশিকা অনুসারে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে উভয় পক্ষের একতরফাভাবে কোনও কাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।
