আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ ভারতে ইতিমধ্যেই পড়েছে। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। খামেনেইর মৃত্যুকে ঘিরে গতকাল থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর উত্তপ্ত। এবার ইরানের শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া দেখা গেল দিল্লিতেও।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় আলি খামেনেইর ছবি হাতে দিল্লির রাস্তায় হাজির হাজার হাজার মহিলা। সকলের পরনে বোরখা, হিজাব। সকলের চোখে জল। হাতে মোমবাতি। এঁদের মধ্যে অনেকেই অতীতে কোনও প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হননি। জোর বাগের কারবালায় নিজেদের বোন, সন্তান, আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়ে পথে নেমে শোক প্রকাশ করলেন তাঁরা।
লক্ষ্মী নগরের বাসিন্দা জাইবুন নিশা জাইদি নিজের পরিবারের ছ'জন সদস্যকে নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। তাঁর কথায়, 'মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন ৮৬ বছরের ওই মানুষটি। তাঁকে কেন মারা হল? তাহলে আমরা সকলেই দোষী।'
তেহরান থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে সাউথ দিল্লির কারবালা। খামেনেইর মৃত্যুকে ঘিরে সেখানেও অঝোরে কাঁদছেন মুসলিম মহিলারা। শুধু ইরানেই নয়, শোকের ছায়া যে ভারতেও পড়েছে, তা প্রমাণিত হল আরও একবার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনেইর নিহত হওয়ার খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, কর্নাটক-সহ শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কাশ্মীরে। শ্রীনগর শহর, লাল চক, সাইদা কাদল, বুদগাম, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা-সহ উপত্যকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শোকমিছিল বের হয়। কালো পতাকা, খামেনেইর ছবি এবং ইরানের সমর্থনে ব্যানার হাতে মিছিলে অংশ নেন বহু মানুষ। নওহা পাঠ ও বুক চাপড়ে মাতমে মুখর হয়ে ওঠে শহরের একাধিক এলাকা। এক প্রতিবাদী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহিদ হয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোক পালন করছি।” বহু মহিলা ও শিশুর উপস্থিতিও চোখে পড়ে মিছিলে।
প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীনগরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী দু’দিন স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলিন প্রভাত নিজে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও উত্তেজনা ছিল, বড় ধরনের হিংসার খবর মেলেনি। উপত্যকায় প্রায় ১৫ লক্ষ শিয়া বাস করেন, এবং তাঁদের একাংশের কাছে খামেনেই ছিলেন গভীর প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব—রবিবারের শোকমিছিল তারই প্রমাণ বহন করে।
