আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারাণসীর সাংসদ প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানেই গঙ্গার ঘাট সংস্কার ঘিরে তুলকালাম অবস্থা। প্রশানের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন গনগনে। সংস্কারের জন্য বুধবার মণিকর্ণিকা ঘাটের একাংশ ভাঙে প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই কাজের সময় মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজমাতা অহল্যাবাই হোলকারের এক শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, জেলা প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘাট সংস্কারের আগে আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাল সমাজ সমিতি এবং স্থানীয় মারাঠি সম্প্রদায়ের। শুধু অহল্যাবাইয়ের মূর্তি নয়, বহু প্রাচীন মূর্তিই সংস্কারের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
বারাণসীর জেলাশাসক সত্যেন্দ্র কুমারের অবশ্য দাবি, কোনও মন্দির বা মূর্তি ভাঙা হয়নি। তিনি জানান, সংস্কার কাজের জন্য কিছু শিল্পকর্ম ও মূর্তি দেওয়াল থেকে সরানো হয়েছে, যা বর্তমানে সংস্কৃতি বিভাগের কাছে সংরক্ষিত আছে। কাজ শেষ হলে সেগুলি আবার আগের জায়গায় সসম্মানে স্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দায় সরব কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দুষে সোচ্চার শতাব্দী প্রাচীন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর দাবি, সৌন্দর্যায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের নামে ঐতিহ্য বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চান এবং কেবল তাঁরই নামফলক লাগাতে চান।
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ধ্বংস করেছেন: খাড়গে
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে খাড়গে লিখেছেন, "মহাশয়, জাঁকজমকপূর্ণ সৌন্দর্যায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের নামে, আপনি বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেছেন, শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ধ্বংস করেছেন। প্রথমে, করিডোরের নামে, মন্দির এবং মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছিল, এবং এখন প্রাচীন ঘাটগুলির পালা।" আপনি ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতিটি অংশ মুছে ফেলতে চান এবং কেবল আপনার নামফলক লাগাতে চান।
খাড়গে পোস্টে কিছু ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে বুলডোজার এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত মূর্তি দেখানো হয়েছে। খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি এবং মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছিল? কেন সেগুলি জাদুঘরে রাখা হয়নি? লক্ষ লক্ষ মানুষ কাশীতে মুক্তির জন্য আসেন, ভক্তদের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্য কি?
২০২৩ সালের ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদি বারাণসীতে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এটা কাশী বিশ্বনাথ করিডোর প্রকল্পের অংশ।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ঘাটটি প্রশস্ত করা, তীর্থযাত্রীদের জন্য র্যাম্প নির্মাণ, বসার জায়গা, ভিআইপিদের বসার জায়গা, কাঠের প্লাজা (কাঠ বিক্রির জায়গা), স্যানিটেশন, বন্যা সুরক্ষা এবং সিন্ধিয়া ঘাটের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, প্রকল্পের ব্যয় আনুমানিক ১৭.৫৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সবদেহ দাহ করতে কাঠের ব্যবহার কমাতে এবং দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বারাণসীর জনপ্রিয় ঘাটের মধ্যে অন্যতম হল মণিকর্ণিকা ঘাট। এটা মূলত শ্মশানঘাট হিসাবেই পরিচিত। এই ঘাটটি পর্যটকদের কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয়। ঘাট জুড়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। এবার সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিবাদে সরব কংগ্রেস ছাড়াও একাধিক সংগঠনও।
এই প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক কী?
স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে কাজের সময় শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি এবং মন্দির, বড় এবং ছোট উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, জেলা প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে যে কোনও মন্দির বা সাংস্কৃতিক কাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে না; সবকিছু নিরাপদ এবং পরে পুনরুদ্ধার করা হবে। বারাণসী কালেক্টর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
