আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের শীতকালীন অধিবেশনকে ঘিরে রবিবার (৩০ নভেম্বর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলো একটি সর্বদলীয় বৈঠক। সেখানে বিরোধী দলগুলি বিশেষভাবে দাবি তোলে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision – SIR) নিয়ে আলোচনার। পাশাপাশি দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের প্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা, বাড়তে থাকা বায়ুদূষণ, কৃষক-শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত আলোচনা করার দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, আইন মন্ত্রী অরুণ রাম মেঘওয়াল এবং বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভায় সরকার পক্ষের নেতা জে.পি. নাড্ডা। বৈঠকে মোট ৩৬টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি যোগ দেন। বৈঠকের পর কংগ্রেসের লোকসভা উপনেতা গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন যে সরকার সংসদীয় প্রথাকে সংকুচিত করার পথে হাঁটছে।
গগৈ বলেন, “এই শীতকালীন অধিবেশন মাত্র ১৯ দিনের, যার মধ্যে আলোচনার জন্য কার্যকর দিন মাত্র ১৫টি। সম্ভবত এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট শীতকালীন অধিবেশন হতে চলেছে। অধিবেশন ডাকার ক্ষেত্রেও সরকারের অযথা দেরি হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সরকার নিজেই সংসদ অচল করতে চাইছে।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বিরোধী দলগুলি দিল্লি বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁর ভাষায়, “গণতন্ত্রের নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।”
গগৈ বলেন, বিরোধীদের তোলা আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে ছিল—বায়ুদূষণের প্রকোপে জনস্বাস্থ্যের হুমকি, কৃষক-শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা-ভূমিধস-ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি।
এদিকে, সিপিআই(এম)–এর সাংসদ জন ব্রিটাস জানান যে বিরোধী দলগুলি SIR নিয়ে আলোচনার দাবি তোলায় সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “SIR-এর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, গ্রাম বাংলার সংকট, ফেডারেল কাঠামো এবং রাজ্যগুলোর প্রস্তাবিত বিলগুলি গভর্নরদের কাছে আটকে থাকার বিষয়ে আলোচনা জরুরি।”
তিনি আরও জানান যে সরকার আলোচনার বিষয় প্রসারিত করতে চাইলে বিরোধীরা নির্বাচনী সংস্কার নিয়েও আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সকল বিরোধী দলই SIR নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছে। আমরা আশা করি সরকারের সদিচ্ছা থাকবে এবং আলোচনার জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।”
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য জানান যে কোনও দল সংসদ না চলতে দেওয়ার হুমকি দেয়নি। তবে কিছু দল SIR কে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সম্ভাবনার কথা বলেছে।
রিজিজুর ভাষায়, “সংসদ দেশের। এখানে আলোচনার নিয়ম এবং সাংসদীয় রীতি মেনে সব বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব। আজকের বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে।”
তিনি জানান, বৈঠকে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব উপদেষ্টা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বর্ষাকালীন অধিবেশন কার্যত ভেস্তে গিয়েছিল বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের কারণে, যেখানে SIR নিয়ে আলোচনার দাবি বারবার উঠলেও সরকার গুরুত্ব দেয়নি। এবার বিরোধীরা আশা করছে—সরকার আলোচনার পথ খুলে দেবে, নতুবা অধিবেশন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
